kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাসের বিস্তার

হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করুন

২৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




করোনাভাইরাসের বিস্তার

সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সরকার করোনার বিস্তার রোধে কার্যকর কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। ১০ দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করার পর এবার সব স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশিদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার এরই মধ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা অনেকটা প্রস্তুত করেছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ১২টি হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শয্যা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত করোনা রোগীদের জন্য সংরক্ষিত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র

(আইসিইউ) প্রস্তুত আছে ১৫০টি। আরো ১৫০টি প্রক্রিয়াধীন। সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে চীন থেকেও। গত সপ্তাহে চীন সরকার বাংলাদেশকে ১০ হাজার লোকের করোনাভাইরাস পরীক্ষার টেস্ট কিট, ১৫ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক, ১০ হাজার ‘মেডিক্যাল প্রসেসিং ক্লোদিং’ এবং এক হাজার ‘ইনফ্রারেড থার্মোমিটার’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। চীনের জ্যাক মা ফাউন্ডেশন ও আলিবাবা ফাউন্ডেশন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগকে সহযোগিতা করতে দান হিসেবে ৩০ হাজার ‘নভেল করোনাভাইরাস টেস্টিং রিএজেন্ট’ এবং ৩০ হাজার এন৯৫ মেডিক্যাল মাস্ক ও দুই লাখ ৭০ হাজার ‘সিঙ্গল-ইউজ সার্জিক্যাল মাস্ক’সহ মোট তিন লাখ মাস্ক দিচ্ছে।  

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানায় অন্তত পাঁচটি বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য করেছে প্রশাসন। এ ছাড়া নির্দেশ অমান্য করায় জরিমানাও করা হয়েছে কয়েকটি স্থানে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে সব বয়সী মানুষই। আর সে কারণেই একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তই অন্য কারো জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে ব্যবধান তৈরি করতে পারে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। কিন্তু বাংলাদেশে অনেকেই তা মেনে চলছেন না। বিশেষ করে বিদেশফেরত অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিনের বিধি মেনে চলছেন না। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিনের ছকে বাঁধতে প্রশাসনের কতই না গলদঘর্ম! জরিমানায়ও বাগে আনা যাচ্ছে না তাঁদের। পাশাপাশি বিদেশফেরত প্রবাসী, তাঁদের পরিবারসহ যাদের হোম কোয়ারেন্টিন করার জন্য বলা হয়েছে, তাদের সেটি মানাতে কাজ করছে পুলিশ ও র‌্যাব। বিদেশফেরতদের অবস্থান ও রোগী শনাক্তের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত কিছু এলাকায় বিশেষ নজরদারিও শুরু করেছে এ দুটি বাহিনী। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

সচেতনতা বাড়াতে প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সতর্কতা ও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সবাইকে সতর্ক হতে হবে। বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করুন। এখন এটিই হবে সরকারের জন্য বড় সহযোগিতা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা