kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

ঢাকায় আপত্তির মধ্যেও নির্বাচন

অন্য তিন নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত

২২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আপত্তি ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর। আপত্তি উঠেছিল নাগরিক মহল থেকেও। কিন্তু সে আপত্তি গায়ে মাখেনি নির্বাচন কমিশন। করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভোটার উপস্থিতি কম হবে ধরে নিয়েই জাতীয় সংসদের তিনটি আসনে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তারা। কম ভোটারের উপস্থিতিতেই ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলো। আপাতত নির্বাচন কমিশন তৃপ্ত। তবে নাগরিক দাবি উপেক্ষার বিষয়টি কিন্তু উদাহরণ হয়ে থাকল।

গতানুগতিক কিছু অভিযোগ ছাড়া দিনটি ছিল নিরুত্তাপ। ২১ মার্চ এই নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নানা মহলের আপত্তির প্রধান কারণ করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতি। বিশেষ করে ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচন নিয়েই আপত্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ এই আসনের সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে ইভিএমে। নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা ও দুশ্চিন্তা থাকলেও নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিন পেছানোর কোনো কারণ নাকি খুঁজে পায়নি। যদিও নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঢাকা-১০ আসনসহ তিনটি সংসদীয় এলাকায় ভোটের আয়োজন নিয়ে সমালোচনার মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়। কিন্তু ‘ভোটকেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকবে। ভোটাররা ভোট দেওয়ার আগে-পরে এটা ব্যবহার করবেন। হাত ধুয়ে ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে আবার হাত ধুয়ে ফেলবেন।’ এই যুক্তি দেখিয়ে ভোটগ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সবারই তো জানা, অতি সংক্রামক নভেল করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, ছড়ায় মূলত হাঁচি-কাশি ও স্পর্শের মধ্য দিয়ে। লক্ষণীয়, জনসমাগমে এ রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে বলে এরই মধ্যে সব ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা অনুষ্ঠান স্থগিত করার পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও কাটছাঁট করে মূলত ভিডিওর মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু উপনির্বাচনের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। ভোটকেন্দ্র ও এর আশপাশে জনসমাগম হবে—এটা জানা কথা। একই মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে সবাইকে ভোট দিতে হয়েছে। কাজেই ঝুঁকি থেকেই যায়। অথচ সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলঙ্কা তাদের আগামী মাসের সংসদীয় নির্বাচন স্থগিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের বোধোদয় হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় সংসদের বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে তারা। কমিশনের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা