kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাসের প্রভাব

মোকাবেলায় সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের প্রভাব

নতুন করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ এরই মধ্যে বিশ্বের ৪৮টি দেশে ছড়িয়েছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বে দুই হাজার ৮১১ জন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে দুই হাজার ৭৪৪ জন মারা গেছে চীনের মূল ভূখণ্ডে। সেখানে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৪৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আশার কথা কভিড-১৯ বা নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা দেখতে দেশে যে ৮৪ জনের রক্ত ও লালার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে সৌভাগ্যক্রমে তাদের কারো মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্কতা ও দেশের বাইরে থেকে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ অনেকখানি এগিয়ে আছে। রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালকে শুধু করোনাভাইরাসের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাজনিত বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু আসল ভয় দেশের অর্থনীতি তথা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে। বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসের প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের অর্থনীতিতে। বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার মধ্যে করোনাভাইরাসকে নতুন সংকট হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অনিশ্চয়তা সহসা না কাটলে অনেক দেশেই ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দার মুখে পড়বে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক অর্থনীতির টানাপড়েনের বাইরে নয়।

করোনাভাইরাসের প্রভাব সম্পর্কে সম্প্রতি এফবিসিসিআইর কাছে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন প্রতিবেদন আকারে যে মতামত জানিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বিস্তৃতির সঙ্গে কাঁচামাল সংকটে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার উৎপাদন সংকুচিত হয়ে আসছে। একইভাবে কমে আসছে আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে কোনো কোনো খাতে উৎপাদন নেমে আসবে শূন্যের কোঠায়। কিছু পণ্যের সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেবে। অন্যদিকে চীনে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি পুরোটাই আটকে যেতে পারে। এ ছাড়া চীন থেকে কাঁচামাল এনে পণ্য তৈরি করে অন্যান্য দেশে যে রপ্তানি হয়, তাও ব্যাহত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের মোট আমদানির ২৬ শতাংশই হয় চীন থেকে। সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়লে আমাদের প্রধান শিল্প ছাড়াও অন্যান্য শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হবে। পোশাকশিল্পের অন্তত ৪০ ধরনের কাঁচামাল আসে চীন থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিঃসন্দেহে সাময়িকভাবে হলেও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা আসন্ন রোজায় আদা, পেঁয়াজের মতো নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণায়কে ভোগ্যপণ্য সরবরাহের ধারা সচল ও পর্যাপ্ত রাখার জন্য আগাম বার্তা পাঠিয়েছে।  

এ অবস্থায় আমাদের সামনে বিকল্প কী? বিশেষজ্ঞ মত হচ্ছে, আমাদের নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সংকট মোকাবেলায় পরিকল্পনার ছক কষতে হবে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চয় একটি পথনকশা তৈরি করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা