kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

আরো এক দুর্নীতিবাজ

অভিযোগ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিন

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে থাকে বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৯ সালের যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ১৪তম। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য দূরীকরণসহ সর্বোপরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে কঠিনতম অন্তরায় দুর্নীতি। এই প্রতিবেদন প্রকাশের প্রাক্কালে দুর্নীতির ধারণা সূচকের ব্যাখ্যায় টিআইবির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনোভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না। অর্থাৎ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, বাংলাদেশের কিছু মানুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। আর এই মানুষগুলো রাজনৈতিক কিংবা অন্য যেকোনোভাবে ক্ষমতাবান। আবার এটাও ঠিক যে ক্ষমতাসীন দল বা ক্ষমতার রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার মতো ঘটনা বাংলাদেশে যেমনটি ঘটে থাকে, বিশ্বের অন্য কোনো দেশে তেমনটি দেখতে পাওয়া যাবে না। দেখা যায় ক্ষমতায় আসার পর বা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টির পর অনেকেরই সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়। নানা অবৈধ উপায়ে এই গোষ্ঠীটি সম্পদ অর্জন করে। শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরেও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলতে দেখা যায় এসব দুর্নীতিবাজদের। 

ঠিক তেমনই একজনকে নিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে শীর্ষ প্রতিবেদন। যেখানে তুলে আনা হয়েছে এক সংসদ সদস্যের কথা, যিনি কিছুদিন আগেও ছিলেন শ্রমিক। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে গিয়েছিলেন শ্রমিক হিসেবে, আজ তিনি সেই দেশে দুটি কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), নিজ দেশে ব্যাংকের পরিচালকসহ একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। আলিশান বাড়ি-গাড়িসহ কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক। শুধু কি সম্পদশালী? শুরুতে কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও অনেকটা আকস্মিকভাবে স্বামী-স্ত্রী দুজনই এখন সংসদ সদস্য। নিজে স্বতন্ত্র থেকে সংসদ সদস্য এবং স্ত্রী কুমিল্লা থেকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে কুয়েতে মানবপাচারের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে কুয়েতের গণমাধ্যমে। কুয়েতের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একজন সংসদ সদস্যসহ তিনজনের একটি চক্র অন্তত ২০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েতে পাঠিয়ে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করেছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, এই সংসদ সদস্যই কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। তাঁর ব্যাপারে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা