kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাভাবনা

কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনই হোক লক্ষ্য

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাভাবনা

গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী দিনের শিক্ষা নিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রণিধানযোগ্য। নবম শ্রেণিতে পাঠ্যক্রমে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা বিভাজনের দরকার নেই অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান-কলা-বাণিজ্য, এই বিভক্তি না থাকাই ভালো। প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দিয়েছেন তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার হলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকেও সহযোগিতা করতে পারবে—প্রধানমন্ত্রীর এই মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কোনো যুক্তি নেই। শিক্ষার সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য এবং শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার জন্য আমাদের আর কী কী প্রয়োজন সে বিষয়ে শিক্ষকদের কাছে মতামত চেয়েছেন।

শিক্ষা নিয়ে দেশে নানা কথা হচ্ছে। পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা আইন, শিক্ষানীতি এখন আলোচিত বিষয়। এই সময়ে শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নতুন আলোচনার বিষয় হতে পারে। শিক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর অন্য দেশে শিশুদের পরীক্ষার সংখ্যা কমানো হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে উল্টা অবস্থা। পঞ্চম শ্রেণির শিশুদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তাদের জীবন থেকে খেলাধুলা বিনোদন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ প্লাসের জন্য শিশুদের এভাবে চাপ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বইয়ের বোঝা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বিষয়ে নতুন যে ভাবনার কথা বলেছেন, এটাও বিশেষজ্ঞরা ভেবে দেখতে পারেন।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি খবরে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুকূলে অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে ৩২ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা চলতি অর্থবছর থেকে দুই হাজার ৯৬৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বেশি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় পরিচালন ব্যয় প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে উন্নয়ন খাতে। এ ছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনুকূলে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রাক্কলন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শিক্ষা খাতে ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, এই বরাদ্দ শিক্ষার মান উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রাখছে। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতেও শিক্ষা খাতে ব্যয়  করা হোক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা