kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

বায়ুদূষণে শীর্ষে বাংলাদেশ

পরিবেশ বাঁচাতে ব্যবস্থা নিন

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বায়ুদূষণ নিয়ে কাজ করা সংস্থা আইকিউ এয়ার ভিজ্যুয়াল ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। আর শহর হিসেবে ঢাকা রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় নিকৃষ্ট বায়ুর শহরের তালিকায়। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, র্যাংকিং তালিকায় ৮৩.৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার প্রথমে অর্থাৎ সবচেয়ে দূষিত দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ৬৫.৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। তৃতীয় মঙ্গোলিয়া এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। আর তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে প্রতিবেশী ভারতের নাম। এমন খবরে অবশ্য বিস্মিত হওয়ারও কিছু নেই। কারণ ঢাকায় বসবাসকারীদের সম্যক জানা আছে, এ শহরের বাতাসের মান অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা একটু পেছনদিকে তাকালে দেখতে পাই ২০১৮ সালের তালিকায়ও বাংলাদেশের স্থান ছিল সবার শীর্ষে। 

ঢাকা শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে অনেক আগেই। ঢাকার সড়ক ও ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলুশন রিসার্চে প্রকাশিত দুটি গবেষণা প্রতিবেদনেও নানা ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও রয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে দূষিত বায়ু গ্রহণ করলে তা মস্তিষ্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এর ফলে কমে যায় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। ধারণা করা হচ্ছে, দূষিত বায়ু মস্তিষ্কের গঠন বদলে দিতে পারে, যা স্মৃতিশক্তিজনিত রোগ ‘আলঝেইমার’-এর লক্ষণ। গবেষকদের মতে, বায়ুদূষণের মাত্রা ২.৫ পিএমের বেশি হলেই আসলে ঝামেলা শুরু হয়। যত দূষিত বায়ু ফুসফুস এবং রক্ত ততো কম হরমোন নিঃসরণ করে। ফলে স্মৃতিশক্তি পরীক্ষা বা অন্য কোনো টেস্টে মান আসে কম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ এফেক্টস ইনস্টিটিউটের বরাত দিয়ে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের কারণে দেশে বছরে এক লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষ মারা যায়। একই সংখ্যক মানুষকে সারা বছর ধরে ভুগতে হয় ফুসফুসসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন জটিল রোগে। উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের কারণে শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তাহীন শিশুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

দূষণজনিত এক বড় ধরনের বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। এর রক্ষার একমাত্র উপায় পরিবেশ রক্ষা। আর সে লক্ষ্যে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা