kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

সড়কে বেপরোয়া মোটরসাইকেল

শৃঙ্খলা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত শীর্ষ খবরের শিরোনাম ‘সড়কে প্রাণহানি বাড়াচ্ছে বেপরোয়া মোটরসাইকেল’। খবরে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানী ও তিন জেলায় ছয় মোটরসাইকেল আরোহীসহ সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেই চলেছে। রবিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের প্রসাদপুর মোড়ে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন মোটরসাইকেলের দুই আরোহী। চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে গত শনিবার রাতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে নিহত হন দুজন। আগের দিন প্রাণ হারিয়েছেন জাতীয় হ্যান্ডবল দলের গোলরক্ষক সোহানুর রহমান সোহান। খবরে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল এখন ঢাকা মহানগরে ‘মরণযান’ হিসেবে পরিচিত।

প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে মোটরসাইকেলচালকদের কারণে পথচারী ও যাত্রীদের কতটা ত্যক্তবিরক্ত হতে হয়, সে অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। বেশির ভাগ মোটরসাইকেলচালকই অন্য যানবাহনকে অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করে সব সময়। সে ক্ষেত্রে তারা নিয়ম না মেনে উল্টোপথে, ফুটপাত দিয়েও বাহনটি চালিয়ে যায়। চলতি বছর প্রকাশিত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর পাঁচ হাজার ৫১৬ সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজার ৮৫৫ জন নিহত ও ১৩ হাজার ৩৩০ জন আহত হয়েছে। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের তুলনায় প্রাণহানি ৮.০৭ শতাংশ বেড়েছে। সংঘটিত দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের সংশ্লিষ্টতা ছিল দ্বিতীয় স্থানে, ২১.৪ শতাংশ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুসারে, গত জানুয়ারিতে দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে। ৩৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি, ৮৯টি। অর্থাৎ মোট দুর্ঘটনার ২৬.১৭ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয় ১০৩ জন, যা মোট নিহতের ২৩.১৪ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকে মোটরসাইকেলের আগে রয়েছে ট্রাক ও পিকআপ, ৯৭টি।

সড়ক দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটে থাকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে। রাজধানীতে মোটরসাইকেলচালকরা, বিশেষ করে রাইড শেয়ারিংয়ের চালকরা যেভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে থাকেন, তা ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো। এমন অনেক চালক পাওয়া যাবে, যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সটিও অসাধু উপায়ে বের করা। এসব চালকই অনেক সময় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। সড়কে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ফেরানো গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব, তবে সবার আগে দায়িত্বশীল হতে হবে চালকদের।

মন্তব্য