kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

উন্নয়নকাজে অস্বাভাবিক ব্যয়

অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকতে হবে

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উন্নয়নকাজে অস্বাভাবিক ব্যয়

রাজধানী ঢাকা বাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় নাম লিখিয়েছে অনেক আগেই। রাজধানী শহর হিসেবেও ঢাকার অবস্থান বিশ্বের অন্যান্য রাজধানীর চেয়ে অনেক পেছনে। এখানে শৃঙ্খলা মেনে চলে না গণপরিবহন। আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো পরিকল্পনা নেই। নগরীর রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী নয়। বায়ুদূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। দেখা দিয়েছে নানা রোগ। প্রতিদিন মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে যানজটে। সড়ক নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়ক দাবিতে সড়কে টানা আন্দোলন শুরু করেছিল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল—রাজধানীতে স্কুল, কলেজের সামনে নতুন উড়াল সেতু ও যাত্রীছাউনি নির্মাণ এবং রোড মিডিয়ান উন্নয়ন করা। জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ডিএনসিসি ওই প্রকল্প তৈরি করে। ৩৭২ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা’ শিরোনামের প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া করতে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে ডিএনসিসি। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রকল্পে বিভিন্ন খাতে খরচের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা চলমান সমজাতীয় প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না দেখতে গিয়ে দেখা গেছে, ডিএনসিসির খরচের প্রস্তাব চলমান সমজাতীয় প্রকল্পগুলোর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। প্রতি কিলোমিটার সড়কদ্বীপ বা সড়ক বিভাজক উন্নয়নে ৯৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা করে খরচ করতে চায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় প্রতিটি যাত্রীছাউনি নির্মাণে খরচ করা হবে ১৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা। আর প্রতিটি ওয়েটিং শেড নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। রাস্তার মাঝখানে সড়কদ্বীপ উন্নয়ন, যাত্রীছাউনি ও ওয়েটিং শেড নির্মাণ খরচের ওই প্রস্তাব অস্বাভাবিক বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। এসব কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাই বলছেন, প্রতি কিলোমিটার সড়কদ্বীপ নির্মাণে খরচ পড়ছে ২৪ লাখ টাকা। অথচ প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার আইল্যান্ড নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৯৪ লাখ টাকা। ১৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে ৪২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ১০ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়নে খরচ ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই ডিএনসিসির খরচের প্রস্তাবে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি অবশ্যই যৌক্তিক। দেশের রাজধানী শহরকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়ন অভিযাত্রায়ও সামনে থাকবে রাজধানী। কিন্তু তাই বলে উন্নয়নের নামে হরিলুট তো চলতে পারে না। আমরা আশা করব, অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা