kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

শহীদ মিনারের পাশে মাজার

উচ্ছেদ করে জমি দখলমুক্ত করা হোক

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক শহীদ মিনার। ১৯৫২ সালে গড়ে উঠার পর থেকে শহীদ মিনারকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী শহীদ মিনার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাঙালির স্মৃতির মিনার। প্রেরণা জুগিয়েছে গণতান্ত্রিক নানা আন্দোলন-সংগ্রামে। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জমি দখলের অপচেষ্টাও হয়েছে। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টিও বারবার আলোচনায় এসেছে। শহীদ মিনারের পেছনে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠার কথা উল্লেখ করে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘বেড়ে উঠছে কথিত মাজার, হুমকিতে শহীদ মিনার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঢাকা মেডিক্যালের সাবেক শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এখানে কখনো কোনো মাজার ছিল না। ছিল সাধারণ একটি কবর। তাঁরা এও জানান, কবরটি মেডিক্যাল কলেজের কোনো এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর। পরে সেই কবরটি নব্বইয়ের দশকে এবং ২০০০ সালের দিকে ধীরে ধীরে মাজার বানিয়ে নিয়েছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।’ ওই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই রিট আবেদনের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সাধারণ একটি কবর ঘিরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা মাজারের স্থাপনা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট, তবে কবরটি ঠিক রাখতে বলা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতা ও অবহেলায় আবার আস্তানা গেড়েছে কথিত পীরের ভক্ত-আশেকানরা। এরই মধ্যে তারা শহীদ মিনারের জায়গায় নির্মাণ করেছে কথিত মাজার ও ভক্ত-আশেকানদের থাকার জায়গাসহ নানা স্থাপনা।

এ কথা সবার জানা, শহীদ মিনারের পাশে কখনো কোনো পীরের কবর ছিল না, কখনো কোনো মাজার ছিল না। শহীদ মিনারকে গ্রাস করার জন্য, শহীদ মিনারকে বিতর্কিত করার জন্য এটি একটি স্বার্থান্ব্বেষী গোষ্ঠীর পাঁয়তারা। শহীদ মিনারের জায়গায় মাজার গড়ে তোলার কোনো সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও রায় রয়েছে। মাজারটি হাইকোর্টের নির্দেশে অবৈধ ঘোষণার পর সেখানকার সব কিছু ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এখন যারা এ কবরকে আবার মাজার করার পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন এত দিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে কী করে আবার অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে মাজার উচ্ছেদ করে শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় উদ্যোগী হবে, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা