kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

পুলিশের অপরাধপ্রবণতা

ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে উদ্যোগ নিতে হবে

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ এই প্রচার চালানো হচ্ছে কবে থেকেই। কিন্তু পুলিশ যে আদৌ জনগণের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত জানুয়ারি মাসেই পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সমস্যা আন্তরিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ সদস্যদের দ্বারা নিরীহ মানুষ যেন হয়রানি, নির্যাতনের শিকার না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে বলেন তিনি। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক বাংলাদেশ পুলিশ। চলতি মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের প্রতি সর্বোচ্চ অনুগত ও আস্থাশীল হয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে আরো জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।’ অন্যদিকে ‘৫ শতাংশ পুলিশের অন্যায়, অপকর্ম ও দুর্নীতির জন্য গোটা পুলিশ বাহিনীর অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে’ বলে গত বছরের শেষার্ধে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ‘এই ৫ শতাংশ পুলিশ ধরেই নিয়েছে, দুর্নীতি করলে তাদের কিছু হবে না।’ 

গত ছয় মাসের আলোচিত অর্ধশতাধিক ঘটনা এবং অভিযোগ গ্রহণের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এখন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হুমকি, হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ আর্থিক অপরাধ বা দুর্নীতির অভিযোগ বেশি উঠছে। এসব অপরাধের বেশি শিকার হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষ। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুতর অপরাধ করেও পুলিশ সদস্যরা নামমাত্র শাস্তিতে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। এ কারণেই পুলিশে অপরাধ কমছে না। এমনকি অপকর্মে জড়িতরা প্রভাব খাটিয়ে বহালও থেকে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের আর্থিক অপরাধ বাহিনীর ভাবমূর্তিতে মারাত্মক খারাপ প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতির উত্তরণ করতে হলে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এখন পুলিশ বাহিনী শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও উন্নত। শান্তি মিশনে রাখছে প্রশংসনীয় ভূমিকা। গুটিকয়েক সদস্যের কারণে পুরো বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে জনমুখী বাহিনী নিশ্চিত করা একেবারেই অসম্ভব নয়। এ জন্য পুলিশকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব হবে—এটাই প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা