kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ

সচেতনতা ও রোগ ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টি দিন

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। যার ফলে আমরা দেখতে পাই অসময়ে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। মানুষের রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যখন করোনাভাইরাস আতঙ্ক, তখন বাংলাদেশের মানুষ ভুগছে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে চার হাজার ৫২১ জন। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৩৮৪। মারা গেছে ৬১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এবার গত ১ নভেম্বর থেকে গত সোমবার সকাল পর্যন্ত শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৮৭ হাজার ৭৬০ জন, ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ছয় হাজার ৫৬০ জন এবং ঠাণ্ডাজনিত অন্যান্য রোগে দুই লাখ ২৭ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগে মৃত্যু ঘটেছে ২২ জনের, ডায়রিয়ায় ৯ জনের ও অন্যান্য শীতজনিত রোগে ৩০ জনের।

আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ, তাপমাত্রার অস্বাভাবিক তারতম্য ও মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে রোগের জটিলতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাও রয়েছে বলে মেনে নিচ্ছেন তাঁরা। দেশে শ্বাসতন্ত্রের রোগের মাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসায়ও দেখা দিয়েছে জটিলতা। কিন্তু সেই অনুসারে ব্যবস্থাপনা আরো বেশি প্রয়োজন। তাঁদের মতে, জলবায়ুর প্রভাব, আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ ও মানুষের রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার অভাবের কারণে যেমন মৌসুমি রোগের প্রকোপ বাড়ছে, আবার এসব রোগের জটিলতাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায়ও ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করছেন তাঁরা। মাঠপর্যায়ে সব হাসপাতালে এখনো সব ধরনের চিকিৎসার সুযোগ পর্যাপ্তভাবে সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, মানুষ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে আসে রোগ জটিল হয়ে উঠার পর। অথচ এ ধরনের রোগগুলো প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে সব দিক থেকেই মানুষের সুরক্ষা মেলে। ভোগান্তিও যেমন কমে, তেমন মৃত্যুহারও কমানো যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন আমাদের মৌসুমি রোগের পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। রোগের গতিবিধি এবং পূর্বাপর প্রকোপ কম না বেশি তা নিরূপণ করে করণীয় ঠিক করা তাতে সহজ হবে। আবার চিকিৎসকরা বলছেন, আমাদের দেশে সেকেন্ডারি ইনফেকশন বেশি থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকভাবে কাজ করে না। হাঁচি-কাশিতে বেশির ভাগ মানুষ সচেতন থাকে না। ফলে ভাইরাস-জীবাণু ছড়ানোর সুযোগ থাকে বেশি। আবার আক্রান্ত হলেও বেশির ভাগই চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে দেরি করে আসে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ ও রোগব্যবস্থাপনায় আমাদের জোর দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা