kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি

আদালতের নির্দেশনা মেনে ব্যবস্থা নিন

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক। মহাসড়কে ডিভাইডার তৈরি করা হয়েছে। শ্লথগতির যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। পিষ্ট হচ্ছে মূল্যবান জীবন আর অনেক পরিবারের স্বপ্ন। একেকটি সড়ক দুর্ঘটনা অনেক পরিবারকে পথে বসিয়ে দিচ্ছে। সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনায় প্রতিদিন যে প্রাণহানি ঘটছে, তার অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি। সড়ক উপযোগী থাকলেও অনুপযোগী গাড়ির কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটে দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর অন্যান্য কারণের মধ্যে জড়িত ছিল ৬৬ হাজার ৬৬১টি অনুপযোগী গাড়ি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুসারে বিদায়ী ২০১৯ সালে পাঁচ হাজার ৫১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ১৫ শতাংশই ছিল অনুমোদনবিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি বাইক, নছিমন-করিমন-মহেন্দ্র-ট্রাক্টর ও লেগুনা। এই সংগঠনটির মতে, সড়ক দুর্ঘটনার ১২টি কারণের অন্যতম ফিটনেসবিহীন যানবাহন। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-তে অনুপযোগী যানবাহন চালালে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এর পরও ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল অসহনীয় মাত্রায় বেড়েছে। দেশের সড়ক-মহাসড়ক শুধু নয় রাজধানী ঢাকায়ও যেসব যানবাহন চলছে, তার বেশির ভাগই চলাচলের অযোগ্য। ফিটনেস পরীক্ষার পরই একটি গাড়ির সড়কে চলাচলের অনুমতি বা অনুমোদন দেওয়া হয়। বিআরটিএর ঢাকার মিরপুর ছাড়া অন্যান্য কার্যালয়ে ফিটনেস পরীক্ষার যন্ত্র নেই। ফলে মোটরযান পরিদর্শকরা শুধু চোখ দিয়ে দেখেই গাড়ির উপযুক্ততা পরীক্ষা করে ফিটনেস সনদ দিচ্ছেন। অন্যদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহের সময় সেগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট পরীক্ষা করা হচ্ছে না।

এ অবস্থায় সারা দেশে নিবন্ধিত ফিটনেসবিহীন, অনিবন্ধিত এবং চলাচলের অযোগ্য গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, তদারকি ও সেগুলোর চলাচল বন্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে দেশের সব জেলায় একটি করে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কগুলোতেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ মহাসড়কের দিকে আগে নজর দেওয়া দরকার। সারা দেশে একসঙ্গে কাজ না করে আগে মহাসড়ক নিয়ে আদেশ দিলে তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। তাঁদের মতে, আইনে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশও ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করায় শৃঙ্খলা আসছে না। তাই সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করাই যৌক্তিক। হাইকোর্ট যে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, এই টাস্কফোর্স ফিটনেসবিহীন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন চালককে গ্রেপ্তার, জরিমানা ও গাড়ি ডাম্পিং করতে পারবে। আমরা আশা করব, আদালতের নির্দেশনা মেনে টাস্কফোর্স গঠন করা হবে এবং এই টাস্কফোর্স কার্যকর হবে। যেকোনো মূল্যে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা