kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

দূষণ বাড়ছে ঢাকায়

প্রতিকারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূষণ বাড়ছে ঢাকায়

রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ঢাকা ছিল সবার পছন্দের নগরী। ঢাকার অনেক কীর্তিই আজ ঢাকা পড়ে গেছে। তিলোত্তমা হিসেবে গড়ে উঠতে গিয়ে ঢাকা আজ দূষণের নগরী। বায়ুদূষণে বিশ্বের এক নম্বর শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ঢাকা। দূষণের তালিকায় এই শীর্ষস্থান ধরে রাখা মোটেও গৌরবের বিষয় নয়। নগরজুড়ে চলমান নির্মাণকাজে বায়ুদূষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বয়স্ক ও শিশুদের নাক-চোখ ও শ্বাসতন্ত্রের অসুখ। এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশকে যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তার পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ বছরে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলার।

ঢাকায় বায়ুদূষণের কারণে শিশু ও বয়স্করাই বেশি ঝুঁকিতে। বাতাসে থাকা নানা ক্ষতিকর উপাদান গলা ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী বাতাসে থাকা কিছু ক্ষতিকর উপাদান। বাতাসে ভাসমান বস্তুকণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম—অর্থাৎ পিপিএম এককে। বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের বস্তুকণার পরিমাণ যদি শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তাহলে ওই বাতাসকে বায়ুর মানের সূচকে ‘ভালো’ বলা যায়। এই মাত্রা ৫১-১০০ হলে বাতাসকে ‘মধ্যম’ মানের এবং ১০১-১৫০ হলে ‘বিপত্সীমায়’ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আর পিপিএম ১৫১-২০০ হলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-৫০০ হলে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র—ক্যাপসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার পল্টন মোড়ে বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণা বা পিএম ২.৫-৪২৮ মাইক্রোগ্রাম, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ৩৪০ মাইক্রোগ্রাম, রায়ের বাজারে ৩৪৯ ও উত্তরায় ৩০১ মাইক্রোগ্রাম।

বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হওয়ার নেপথ্যের কারণও কারো অজানা নয়। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে চলছে সড়ক খনন। নগরীর অলিগলি খোঁড়াখুঁড়ির সময় কোনো ধরনের নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। উন্মুক্ত স্থানে বালু, মাটি, পাথরসহ অন্যান্য নির্মাণপণ্য খোলা রাস্তায় ফেলে রাখায় সৃষ্টি হচ্ছে বায়ুদূষণ। রাজধানীতে নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোর আওতায় সড়কে কাটাকাটি চলছেই। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র পরিচালিত গবেষণা বলছে, ঢাকার প্রধান প্রধান এলাকায় ৪৬টি স্থানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে তা উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রচুর ধুলাবালি উড়ছে। এ কারণেও ঢাকার বায়ুদূষণ কমছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব। ঢাকার বাতাস এখন নাগরিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বায়ুদূষণ রোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা