kalerkantho

সোমবার । ৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

‘মাটিখেকো’ চক্রের আগ্রাসন

অভিযোগ বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মাটিখেকো’ চক্রের আগ্রাসন

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। দিনে দিনে কমে যাচ্ছে কৃষিজমি। মানুষ বাড়ছে। গড়ে উঠছে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা। চাষের জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ঘরবাড়ি। অন্যদিকে নদী ভরাট হচ্ছে। এ সব কিছুর বিরূপ প্রভাব পড়ছে প্রকৃতিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে মানুষের দখল মনোবৃত্তিও দেশের প্রকৃতির জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু মানুষের সর্বগ্রাসী মনোভাব। মানুষের লোভের বলি হচ্ছে প্রকৃতি। বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত ‘মাটিখেকো চক্রে জিম্মি সহস্রাধিক পরিবার’ শীর্ষক খবরটি বলে দেয়, কিছু টাকার জন্য মানুষ কতটা হিংস্র হতে পারে। খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোণ্ডা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও, কাজীরগাঁও, দক্ষিণ পানগাঁও, পানগাঁও এবং কাউটাইল এলাকায় নির্বিঘ্নে অপতৎপরতা চালাতে ওরা গড়ে তুলেছে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। সংঘবদ্ধ এই তিন মাটিখেকো চক্রের ফাঁদে জিম্মি হয়ে পড়েছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কেউ প্রতিবাদ করলেই বুকে চেপে ধরা হচ্ছে পিস্তল। মাটি লুটেরাচক্রের আগ্রাসী থাবায় হুমকির মুখে পড়েছে বুড়িগঙ্গাসংলগ্ন কোণ্ডা ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামসহ প্রায় সাত বর্গকিলোমিটার এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ। মাটিখেকোদের গ্রাস থেকে রেহাই পাচ্ছে না সরকারি রাস্তাঘাট, স্থাপনাসহ স্থানীয়দের বাড়িঘরও। নির্বিচারে লুটে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার ট্রাক মাটি। ট্রাকপ্রতি তিন-চার হাজার টাকা দাম ধরে সেসব মাটি পাঠানো হচ্ছে আশপাশের ৪০টি ইটভাটায়। সরবরাহ করে যাচ্ছে মাটি ভরাটের ঠিকাদারি কর্মকাণ্ডে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা, অভিযোগ রয়েছে, মাটিখেকো চক্র এসব অপকর্মে স্থানীয় থানা-পুলিশেরও মদদ পাচ্ছে। নির্লিপ্ততার অভিযোগ রয়েছে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধেও।

যাঁদের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, তাঁরা কেউ-ই সেই অর্থে এলাকায় প্রভাবশালী নন। একটু একটু করে গড়ে তোলা সঞ্চয় থেকে জমি কিনেছিলেন। কেউ কেউ গড়ে তুলেছিলেন ঘর। তাঁদের ঘরবাড়িও আজ গ্রাস করে নিয়েছে মাটিখেকো চক্র।

এ থেকে প্রতিবিধানের উপায় কী? যাঁর বিরুদ্ধে মাটি বিক্রি করার অভিযোগ, তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। একটি রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনের ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো নেতার বিরুদ্ধে যখন এ ধরনের অভিযোগ উঠে তখন এর দায় কিছুটা হলেও রাজনৈতিক দলের ওপর বর্তায়। প্রকাশিত খবরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দলীয়ভাবে তদন্ত করতে পারে দলটি। নিতে পারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। সবার আগে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকেও সক্রিয় হতে হবে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরেই পুলিশের নির্লিপ্ত আচরণ স্পষ্ট। স্থানীয় প্রশাসনকেও এ ব্যাপারে ভূমিকা নিতে হবে। আমরা আশা করব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রমাণ করবে, মাটিখেকো সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা