kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বস্তি এলাকায় আগুন

‘নিয়তির খেলা’র অবসান হোক

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শীতের সময় রাজধানীর বস্তি এলাকায় বা হকার্স মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটবে—এটা যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনাই বেশি ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নানা কারণ রয়েছে। অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি ও অবৈধ বিদ্যুত্সংযোগ, নাশকতার চেষ্টা, বস্তি উচ্ছেদের জন্য স্বার্থান্বেষী মহলের অপচেষ্টা—এসবই বস্তি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আর আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণ ঘনবসতি, ফায়াস সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকা, নির্বাপণ ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা চালানোর সুযোগ ও সরঞ্জামের অভাব। কিন্তু সমস্যা হলো, কারণ চিহ্নিত হলেও সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি বস্তিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট অক্লান্ত চেষ্টায় ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তার আগেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় এলাকাটি। প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস লিকেজ বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যদিও নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের সহায়-সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুই শর বেশি ঘর পুড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বস্তিতে আগুন লাগলে যে সমস্যা বরাবর হয়ে থাকে সে কথাই বলেছেন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন। পানিস্বল্পতা ও সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়েছে তাঁদের। আগুন লাগার কারণ জানতে ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

বস্তি এলাকায় আগুন লাগলে বাসিন্দারা সর্বস্বান্ত হয়—এটাই সাধারণ খবর। টিঅ্যান্ডটি কলোনি বস্তিতেও তেমনটি ঘটেছে। তবে সেখানকার বাসিন্দাদের বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্যের কথা কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তারা শিক্ষাসন্ধানী সচেতন মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সচেতন ও সচেষ্ট। পুড়ে যাওয়া বস্তিঘরের প্রায় প্রতিটি পরিবারে রয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। ঘর পুড়ে যাওয়ার পর ছাইয়ের স্তূপে কোনো বই অক্ষত পাওয়া যায় কি না সে চেষ্টায় ব্যস্ত দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। এটা অনন্য নজিরের বিষয় বটে। তাদের ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া এখন নগরপিতা ও সরকারের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বস্তির বিষয়ে সরকার বা সিটি করপোরেশন এ পর্যন্ত দায়িত্বশীলতার কোনো পরিচয় এ পর্যন্ত দিতে পারেনি। আগুন লাগার কারণ চিহ্নিত হলেও যথাযথ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অগ্নিতে বিসর্জনই কি তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো বস্তিবাসীর জানমাল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা