kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

কী মর্মান্তিক!

চালকরা সচেতন হবে কবে

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে কিশোর আবীরের প্রাণ। আর কদিন পরই এসএসসি পরীক্ষা। আবীর ছিল পরীক্ষার্থী। বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে বিদায় সংবর্ধনা নিতে যাচ্ছিল সে। পথেই যন্ত্রদানবের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে আবীর। ঢাকা ওয়াসার পানিবাহী লরির চাকায় পিষ্ট হয় তার মাথা। পিষ্ট হয় একটি পরিবারের স্বপ্ন। কয়েক বছর আগে পানিতে ডুবে মারা গেছে আবীরের বড় ভাই। মা-ও পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছেন। কিশোর আবীরকে ঘিরেই স্বপ্ন ছিল বাবা হানিফ মিয়ার। ছেলেকে সঙ্গে করে প্রতিদিন স্কুলে দিয়ে যেতেন তিনি। গত পরশু ছিল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা। আবীরকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন তিনি। পথে বন্ধুদের দেখে আবীর তার বাবাকে চলে যেতে বলে। কিন্তু স্কুলের গেটে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি তার। ওয়াসার পানিবাহী লরিটি পেছন দিক থেকে এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে শুধু ফেলেই দেয়নি, চাকা তুলে দেয় মাথার ওপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবীরের। যে স্কুলে একটু আগেও ছিল উৎসবের আমেজ, তা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীরাও। 

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। ছোটদের সেই বড় আন্দোলন কর্তৃপক্ষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল, দেশের সড়ক কত অনিরাপদ। শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলনের পর দেশে নিরাপদ সড়ক আইন হয়েছে। নতুন আইনে অনেক ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। বেড়েছে জরিমানার হার। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হয়নি। সড়কে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব দূর করা যায়নি। তাদের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন এসেছে—এমন কথা বলা যাবে না। অথচ চালক ও পথচারীদের সামান্য সচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। যেমন—যেখানে আবীরকে চাপা দিয়েছে ঢাকা ওয়াসার লরি, এই এলাকাটি একটি আবাসিক এলাকা। আবাসিক এলাকায় যেকোনো যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে চালকদের একটু বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু আবীরকে চাপা দেওয়া ট্রাকের গতি কি চালকের নিয়ন্ত্রণে ছিল? আগে রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোয় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতিসীমা লেখা বোর্ড দেখা যেত। এখন আর দেখা যায় না। আবাসিক এলাকায় যানবাহনের চলাচল সীমিত রাখা ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় বিষয়টি ভেবে দেখবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা