kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

নতুন বাজার তৈরি করতে হবে

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

যেকোনো দেশের অর্থনীতি নির্ভর করে সেই দেশের শিল্পের ওপর। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টশিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ ইমেজ সৃষ্টি করেছে গার্মেন্টশিল্প। কর্মসংস্থান, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে রেখেছে বিশেষ ভূমিকা। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক খাত আজ দেশের প্রধান শিল্প। রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জিডিপিতে অবদান, যেদিক দিয়েই দেখা হোক না কেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের অবদান অনেক বড়।

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশের পোশাক খাত। পাঁচ মাস ধরে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি প্রায় ৬ শতাংশ কম। তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে এই সময়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়, সেখানে এ বছর কমেছে। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, কস্ট অব ফান্ড বেড়ে গেছে। ব্যাংকঋণের সুদের হারও বেশি। ইউটিলিটির প্রাইস দফায় দফায় বাড়ছে। বিদেশি ক্রেতারা কমপ্লায়েন্সের কথা বলে, শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে বলে। বাংলাদেশে তা নিশ্চিত করা হলেও তারা পোশাকের দাম বাড়ায়নি। উল্টো দিনকে দিন কমিয়ে দিচ্ছে। শিল্প মালিকদের বক্তব্য এখন বিদেশি ক্রেতারা যে হারে পোশাকের দাম কমিয়ে দিচ্ছে তাতে লাভ তো দূরের কথা, ব্যয়ই উঠে আসছে না। টিকে থাকায়ই এখন তাঁদের জন্য বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, এই নিয়ে বেশি শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এর আগেও দুই দফায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নেতিবাচক ধারার কবলে পড়েছিল। তাঁরা বলছেন, হয়তো এখন পোশাকের বিশ্ববাজার কিছুটা ধীর গতির মধ্যে আছে। আমাদের সময়কে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নিজেদের মধ্যেও বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। যেমন, প্রতিযোগিতার বাজারে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। বিশ্ববাজারে সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে উৎপাদন দক্ষতাও বাড়ানো প্রয়োজন। পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা নিজেদের উদ্যোগে দীর্ঘ মেয়াদে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ প্রয়োজন। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিধারাও আরো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার ছিল। সবার আগে খুঁজে বের করতে হবে নতুন বাজার।

গত চার দশকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত চারটি বড় বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেছে। দুর্যোগ আর ঝুঁকির মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প খাত সমৃদ্ধি লাভ করছে। কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশ করা, বাংলাদেশের পোশাক খাত শিশুশ্রমমুক্ত করা, বৈশ্বিক মন্দা এবং সর্বশেষ রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সুতরাং হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার ও খাতসংশ্লিষ্টদের ঐকান্তিক চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়াবে পোশাক খাত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা