kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

নোভেল করোনাভাইরাস আতঙ্ক

প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিছুদিন আগেই সারা দেশে ডেঙ্গু সংক্রমিত হয়েছিল ব্যাপক হারে। বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন সারা বছরের রোগ। আতঙ্ক হয়ে দেখা দেওয়া ডেঙ্গুর প্রকোপ কাটতে না কাটতেই নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে কারো আক্রান্ত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার পরও আশঙ্কা দূর হচ্ছে না। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিশেষ চিন্তা এ কারণে যে এই রোগটি প্রতিকারে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত নেই। ফলে চিকিৎসকরাও আছেন দ্বিধায়।

করোনাভাইরাসের সঙ্গে বিজ্ঞানীদের পরিচয় গত শতকের ছয়ের দশকে। এরপর বহু ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এত দিন পর্যন্ত জানা ছিল এর মধ্যে মাত্র ছয়টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। এখন যেটি সংক্রমিত হচ্ছে এই ভাইরাসটি নতুন। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০০২ সালে সার্স বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪ লোকের মৃত্যু হয়েছিল, সেটিও একধরনের করোনাভাইরাস। সে সময় ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল আট হাজারের বেশি মানুষ। ২০১২ সালে মার্স বা মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস আক্রান্ত দুই হাজার ৪৯৪ জনের মধ্যে ৮৫৮ জনের মৃত্যু হয়। এ পরিবারের নতুন সদস্য ‘নোভেল’ করোনাভাইরাসের মানবদেহে সংক্রমণের বিষয়টি প্রথম শনাক্ত করা হয় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ভাইরাসটির নাম দেয় ২০১৯-এনসিওভি। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রায় চার হাজার ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আরেকটি গবেষণা বলছে, একজন থেকে গড়ে আড়াইজনের মধ্যে এ ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে। আর ল্যানক্যাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ধারণা, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উহান শহরেই করোনাভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজারে উঠতে পারে। আর সেই সংক্রমণ চীনের অন্যান্য শহরে ছড়াবে। বাদ যাবে না অন্য দেশগুলোও। চীনে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে দাঁড়িয়েছে।

চীনের বাইরে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে অন্তত ১২টি দেশে। চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বেশি থাকায় বাংলাদেশও নতুন এই ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে সর্বাত্মক সচেতনতা। সবার সহযোগিতায় বাংলাদেশ করোনাভাইরাসমুক্ত থাকবে—এটাই প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা