kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশ

প্রতিরোধে চাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উন্নয়ন ও গণতন্ত্র হাত ধরাধরি করে চলে। টেকসই উন্নয়ন ও সুসংহত গণতন্ত্রের প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে সুশাসন। সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে সমাজের সর্বস্তর থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। কিছুদিন আগেও দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ। দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন ছিল জাতিগত প্রচেষ্টার। অতিসম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সন্ধান পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদেরও। আর ঠিক এই সময়েই প্রকাশিত হয়েছে বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইএর দুর্নীতির ধারণা সূচক তথা সিপিআই বা করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স। প্রতিবছর প্রকাশিত হয় বার্লিনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির করা সূচক। এবারের সূচকে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের কোনো দেশই দুর্নীতিমুক্ত নয়। সব দেশেই কিছু না কিছু দুর্নীতি রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের ২০১৯ সালের দুর্নীতির পরিস্থিতি নিয়ে করা এবারের প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক এবং বাংলাদেশের দুর্নীতির পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সূচকের ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী (ভালো থেকে খারাপ) বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এবার ১৪৬ নম্বরে। গতবার ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯ নম্বরে। আবার অধঃক্রম অনুযায়ী (খারাপ থেকে ভালো) বিবেচনা করলে বাংলাদেশ আগের ১৩তম অবস্থান থেকে ১৪তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। তবে ১০০ ভিত্তিতে এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর গতবারের মতোই ২৬। এই স্কেলে শূন্য স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ১০০ স্কোরকে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা সর্বোচ্চ সুশাসনের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘দুর্নীতির ধারণাসূচকে’ বাংলাদেশের অবস্থানের এবার সামান্য পরিবর্তন হলেও পরিস্থিতিতে তেমন কোনো নড়চড় দেখছে না ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, বাংলাদেশের আরো ভালো করার সামর্থ্য ছিল। যদি রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা যেত, অবস্থান-পরিচয়-নির্বিশেষে আইনের কঠোর প্রয়োগ হতো, তাহলে আমাদের স্কোর ও অবস্থানে আরো উন্নতি হতে পারত। এ কথা ঠিক যে দুর্নীতির তিলক মুছে ফেলতে সমাজের সব স্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করার বিকল্প নেই। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সেই সদিচ্ছার পরিচয় পেলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা অসম্ভব নয়। আমরা আশা করব উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশে দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা