kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

গণতন্ত্রের সূচকে অগ্রগতি

নিশ্চিত করতে হবে সুশাসন

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণতন্ত্রের সূচকে অগ্রগতি

নির্বাচনব্যবস্থা ও বহুদলীয় পরিস্থিতি, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার—এই পাঁচটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি দেশের গণতন্ত্র পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্রিটেনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইআইইউ বা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট গত মঙ্গলবার যে বার্ষিক গণতন্ত্র সূচক ২০১৯ প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৬৫টি দেশ ও দুটি ভূখণ্ড নিয়ে তৈরি করা এ বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ ৮৮তম স্থান থেকে এবার ৮০তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো শংকর শাসন বা হাইব্রিড রেজিমের মধ্যেই রয়েছে। এবারের প্রতিবেদনে যেখানে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট উল্লেখ করেছে যে গত এক বছরে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের সূচকে অবনমন হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের এই উত্তরণ নিঃসন্দেহে আমাদের আশাবাদী করে। এবারের সূচকে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালে গণতন্ত্র সূচক প্রণয়নের পর থেকে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। বিশেষ করে এবার বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশখ্যাত ভারতও ১০ ধাপ পিছিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে ‘আওয়ামী লীগ পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকতে তার বজ্রমুষ্টি অব্যাহত রেখেছে, পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। দলটির তৃণমূলের পৃষ্ঠপোষকতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর শক্ত কমান্ড বজায় রাখতে পারায় তার শাসনকে আরো শক্তিশালী করবে। এর পরও দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ সামাজিক আন্দোলনের কারণে ক্রমাগত পরিবর্তন ঘটবে। তবে এসব পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতি করবে না এবং ২০১৯-২০ সালে দেশটির সম্ভাব্য জিডিপি হবে ৭.৮ শতাংশ।’

গণতন্ত্র অর্থবহ করতে হলে তার সুফল পৌঁছে দিতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে। নিশ্চিত করতে হবে টেকসই উন্নয়ন। একটি দেশ যখন লক্ষ্য স্থির করে, তখন তার সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও আসে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন সক্ষমতা। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হতে চায় বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত ও ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত ১০টি দেশের কাতারে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

দেশের অগ্রযাত্রায় গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে উন্নয়নে যেমন গতির সঞ্চার হবে, তেমনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করতে হবে। টেকসই উন্নয়নেরও কোনো বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়ন ও গণতন্ত্র একে অন্যের পরিপূরক। উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক পরিবেশ। অন্যদিকে গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে উন্নয়ন করতে হবে। গণতন্ত্র যেমন সঠিক পথে পরিচালিত হবে, তেমনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিতে হবে। সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে সুশাসন। সুশাসনই হচ্ছে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা