kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ফিরছেন অভিবাসী শ্রমিকরা

সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নিন

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত সৌদি আরবে প্রবাসী সাধারণ বাংলাদেশিরা ভোগান্তিকর এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন। এসব মানুষ মূলত শ্রমিক হিসেবে বা ছোটখাটো ব্যাবসায়িক কাজে নিয়োজিত হওয়ার জন্য অভিবাসী হয়েছেন। চার-পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তাঁদের যেতে হয়েছে। এখন তাঁদের দেশে ফেরত আসতে হচ্ছে। বেশির ভাগকেই ফিরতে হচ্ছে প্রায় শূন্য হাতে।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার একদিনেই সৌদি আরব থেকে ২২৪ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আগের দিন ফিরেছেন ১০৯ জন। চলতি বছরের ১৮ দিনে এক হাজার ৮৩৪ জন ফিরেছেন। ২০১৯ সালে ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ওই বছর বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ জন কর্মী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭ জন, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬ জন, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫ জন, কাতার থেকে দুই হাজার ১২ জন, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ জন এবং কুয়েত থেকে ৪৭৯ জন ফিরেছেন।

এটা জানা কথা, যাঁরা শ্রমিক হিসেবে বা ছোটখাটো ব্যবসা করার জন্য বিদেশে যান, তাঁরা ধারদেনা করে বা জমি বিক্রি করে যান—একদিন অবস্থা ফিরবে এ আশায়। কিন্তু তাঁদের আশাভঙ্গ হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যাঁরা গেছেন তাঁদের বেশির ভাগকেই বছর না ঘুরতেই ফিরতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও তাঁদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে অবস্থানরত হাজার হাজার প্রবাসী আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে পড়েছে। মালয়েশিয়ার পরিস্থিতিও ভয়াবহ। গ্রেপ্তার এড়াতে অবৈধ প্রবাসীরা গাঢাকা দিয়ে আছে। কেউ কেউ বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন।

শ্রমজীবী প্রবাসীদের কেন এমন অবস্থায় পড়তে হয়? এর বড় কারণ দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো প্রয়োজনীয় তথ্যগত ও আইনি সহায়তা দেয় না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। বৈধ করার জন্য তৎপর হওয়াও তাঁদের কাজ; এ ক্ষেত্রে চেষ্টা-তদবির করে ব্যর্থ হলে ভিন্ন কথা। যাঁরা যাচ্ছেন তাঁদেরও সচেতনতা থাকা দরকার। অবৈধ পথ পরিহার করাই শ্রেয়। সরকারের দিক থেকে করণীয় হলো—বিকল্প শ্রমবাজার সন্ধান করা; জনশক্তিকে দক্ষ করে তোলা, যাতে নতুন ক্ষেত্রে দক্ষতার সুযোগটি নেওয়া যায় এবং জিটুজি প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ করা। দালাল-প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তাহলে বৈধ পথে অভিবাসী হওয়ার প্রবণতা বাড়বে। সরকার যথাযথভাবে তৎপর হবে বলে আমরা আশা করি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা