kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বোমা হামলা মামলার রায়

জঙ্গি নির্মূলে আরো তৎপর হতে হবে

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোমা হামলা মামলার রায়

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল প্রায় দুই দশক পর। ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের ১০ জঙ্গির ফাঁসির রায় এসেছে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে। মামলার জীবিত ১২ আসামির মধ্যে দুজন খালাস পেয়েছেন। ২০০১ সালে যে দিনটিতে বোমা হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই একই তারিখে রায় দিলেন আদালত। সেদিন পল্টন ময়দানে ছিল সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশ। ওই ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন তিনি। সিপিবির সমাবেশে হামলার পর ওই বছরের ১৪ এপ্রিল রমনায় বর্ষবরণের উৎসবে একই ধরনের বোমা হামলা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে জঙ্গি হামলার সঙ্গে যোগসূত্র পেয়ে ২০০৫ সালে সিপিবির সমাবেশে হামলার মামলাটির তদন্ত আবার শুরু হয় আদালতের আদেশে। সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার।

দেশে জঙ্গিবাদের চর্চা দৃশ্যমান হয়েছে প্রায় দেড় যুগ আগে আত্মঘাতী বোমা হামলার মধ্য দিয়ে। শুরুর দিকে পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে, রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে, ময়মনসিংহে সিনেমা হলে এবং আরো কিছু জায়গায় বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এরপর বাংলা ভাইয়ের উত্থান ঘটে। জঙ্গিরা সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটায় ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে। এরপর কিছুদিন তাদের কর্মকাণ্ড স্তিমিত ছিল। আবার তারা সক্রিয় হয় ২০১৩ সালে। ব্যক্তিবিশেষকে টার্গেট করে চাপাতি হামলা চালাতে শুরু করে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা হয়। ওই হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ ২০ জন নিহত হন। বিকাশ পর্বে জঙ্গিদের সঙ্গে তৎকালীন সরকার, সরকারি দল ও জোট-সহযোগীর সংশ্লিষ্টতার কথা সবার জানা। রাজনীতির খেলায় তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও যুক্ত করে।

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দীর্ঘদিন থেকেই জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। জঙ্গিরা এখন কিছুটা দুর্বল হলেও তাদের তৎপরতা থেমে নেই। ভেতরে ভেতরে তারা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে, নতুন করে নাশকতার ছক আঁটছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জঙ্গি নির্মূলে এখন আরো তৎপর হতে হবে। দ্রুত আইনি সব প্রক্রিয়া শেষে সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদের দণ্ড কার্যকর করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা