kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

জমে উঠেছে ভোটের লড়াই

প্রতিশ্রুতি হোক বাস্তবায়নযোগ্য

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমে উঠেছে ভোটের লড়াই

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচার জমে উঠেছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্য মেয়র প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয়। দুই সিটি করপোরেশনের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কমিশনাররাও ভোটের প্রচারে নেমে পড়েছেন। কর্মী-সমর্থকরাও তৎপর। গত শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার। পাড়া-মহল্লায় চোখে পড়ছে অতিপরিচিত নৌকা, ধানের শীষসহ হরেক রকমের প্রতীকসংবলিত পোস্টার। ঘরে ঘরে ঘুরে চলেছে ভোট প্রার্থনা। সেই সঙ্গে চলছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। এটাই ভোটের আগের স্বাভাবিক চিত্র। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে নানা প্রতিশ্রুতি দেবেন—এটাই স্বাভাবিক। এটাও ঠিক যে ভোটারদেরও প্রত্যাশা আছে। কে নির্বাচিত হলে কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন বা কী কী নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন—এ নিয়ে নাগরিক সমাজেও আলোচনা হয়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রার্থীদের সেই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া উচিত, যা বাস্তবায়নযোগ্য। আবার এটাও সবাইকে মাথায় রাখতে হবে যে সব সমস্যার সমাধান এক জায়গায় নেই। সিটি করপোরেশনের আইনগত সমস্যা যেমন রয়েছে, তেমনি আছে সক্ষমতার ঘাটতিও। এসব দিক বিবেচনায় রেখেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে তার প্রতিফলন থাকতে হবে।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনী পরিবেশ এরই মধ্যে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। প্রচার শুরুতে উৎসবমুখর থাকলেও দুদিন না যেতেই প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে প্রার্থীরা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগও করছেন। রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, হাঙ্গামা-মারামারির শিক্ষা তিনি ‘পাননি’, এগুলো তাঁর ‘রক্তে নেই’। ঢাকা দক্ষিণে সমর্থকদের ওপর হামলার যে অভিযোগ আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস করেছেন, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া ও বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রার্থীদের সমান সুযোগ সৃষ্টিতে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ এখনো নেয়নি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নিজের সুবিধার জন্য বিরোধীদের হয়রানি করবে বলে শঙ্কার কথা বলছে বিএনপি।

নির্বাচনী প্রচার ও এই সময়ের পরিবেশ উৎসবমুখর রাখতে হবে। পরিস্থিতি সংঘাতময় হলে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে নানা শঙ্কা উঁকি দেবে। শুরুতেই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে সঠিক ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা