kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

প্রবৃদ্ধিতে নতুন আশার সঞ্চার

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ হতে হবে

১১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




প্রবৃদ্ধিতে নতুন আশার সঞ্চার

বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ এখন রীতিমতো বিস্ময়। উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এশীয় অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। আর  বছরের শুরুতেই তাই মিলেছে সুখবর। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাংক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের  প্রবৃদ্ধি ৭.২ শতাংশ হবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরো খানিকটা বেড়ে ৭.৩ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারত বা পাকিস্তানকেই শুধু নয়; বরং শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ চীনকেও ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। অন্যদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট-আইআরআইয়ের জরিপে বলা হচ্ছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থায় সন্তুষ্ট বেশির ভাগ মানুষ। এ দুই ক্ষেত্রে ভবিষ্যতেও ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। তাঁরা মনে করেন, দেশ ঠিক পথেই চলছে। বাংলাদেশের স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় গত বছরের ১ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানো জরিপটি গত বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি দেশের বর্তমান অবস্থায় দেশের মানুষ আশাবাদী ও আস্থাশীল।

ওদিকে গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, তৃণমূলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চায় সরকার। আর এ জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে দেশের সব ইউনিয়নে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও শেষ পর্যায়ে। ২০২০ সালের মধ্যে গ্রামের ১০ কোটি মানুষ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এই কাজটি সম্পন্ন হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে দুই কোটি মানুষের। এ ছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয় হবে। তৈরি পোশাকের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হিসেবে আবির্ভূত হবে তথ্য-প্রযুক্তি খাত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ১ শতাংশের বেশি বাড়বে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, প্রতি এক হাজার নতুন ইন্টারনেট সংযোগ আটটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ১০ শতাংশ ব্রডব্যান্ডের বৃদ্ধি মোট দেশজ উৎপাদনের ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।

উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির এই ধারা নিশ্চিত করতে আমাদের তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতির পথে এগোতে হবে। সেই পথে পা রেখেই এগোতে হলে অর্জন করতে হবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার দক্ষতা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা