kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

যুক্তরাজ্যের নির্বাচন

ঢাকা-লন্ডন সম্পর্ক আরো দৃঢ় হোক

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাজ্যের নির্বাচন

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। এ জয়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে আগামী মাসের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন এবং ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগেই গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে যে সাধারণ নির্বাচনটি হয়ে গেল, সেটি মূলত ছিল ব্রেক্সিটের ভাগ্য নির্ধারণের ভোট। কনজারভেটিভ পার্টির এ জয়ের ফলে ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে দীর্ঘদিন ধরে যে অচলাবস্থা চলছিল, তার অবসান হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা যেতে পারে। জনরায়ের প্রত্যাশা মেটাতে ‘জনগণের সরকার’ গঠন এবং ‘সার্বক্ষণিক কাজ’ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে ভরাডুবি মেনে নিয়ে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন দলপ্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। পার্লামেন্টের ৬৫০টি আসনের মধ্যে রক্ষণশীলরা একাই জিতেছে ৩৬৫টি। লেবার ২০৩, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি ৪৮, লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১১ এবং আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) জয়লাভ করেছে আটটি আসনে। চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি চমক দেখালেও বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তারা কোনো আসনই জিততে পারেনি। জনসনের নেতৃত্বে এবার কনজারভেটিভ পার্টি ১৯৮৭ সালের পর সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জিতেছে, অন্যদিকে লেবার করেছে ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফল। 

নির্বাচন লেবার পার্টির জন্য সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হার বয়ে আনলেও চমক দেখিয়েছেন চার বাঙালি কন্যা। লেবার পার্টির এমপি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও রূপা হক বড় জয়ে তাঁদের আসন ধরে রেখেছেন। তাঁদের সঙ্গে এবার আফসানা বেগমও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দলের বেঞ্চে বসবেন। এবারই প্রথম চারজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি এমপি প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন গণতন্ত্রের সূতিকাগারে। লেবার পার্টির ব্রিটিশ বাঙালি চার নারী প্রার্থীর সবাই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি নারী এমপি রুশনারা আলী ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো এমপি হন। তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও রূপা হক। ২০১৫ সাল থেকেই তাঁরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন। জীবনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে চমক দেখালেন বাংলাদেশি কন্যা আফসানা বেগম।

নির্বাচনের পর ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত জোরালো ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক নতুন ব্রিটিশ সরকারের কাছে গুরুত্ব পাবে। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক অত্যন্ত জোরালো। এই সম্পর্কে বাণিজ্য, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ অনেক মাত্রা আছে। বিগত সরকারের মতো এ সরকারের সময়ও এই সম্পর্ক শক্তিশালী ও জোরালো হওয়া অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

ব্রিটেন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। নতুন সরকারের সময়েও এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে, বাংলাদেশের উন্নয়নে ব্রিটেনের সহযোগিতার হাত আরো প্রসারিত হবে বলে আমরা মনে করি।

ব্রিটেনের নতুন সরকারকে অগ্রিম শুভেচ্ছা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা