kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভারতে নাগরিকত্ব বিল পাস

সহনশীলতার পরিচয় দিন

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে নাগরিকত্ব বিল পাস

ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় গত বুধবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। দিনভর তুমুল বিতর্কের পর রাতে বিলটি পাস হয়। মাত্র এক দিন আগেই নিম্নকক্ষ লোকসভায়ও খুব সহজেই উতরে যায় বিতর্কিত এই বিলটি। রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় বলেছেন, ‘গোটা পৃথিবী থেকে যদি মুসলমানরা এসে এ দেশের নাগরিকত্ব চান, তাহলে তা দেওয়া সম্ভব নয়। এভাবে চলতে পারে না।’ বিজেপির ধারণা, নয়া নাগরিকত্ব আইন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে দলের ভোটব্যাংকে। অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, এই বিল হলো সরকারের আগ্রাসী হিন্দুত্ব নীতির পরিচায়ক। যদিও বিজেপির পাল্টা যুক্তি, দলের ইশতেহারেই বিলটি আনার কথা ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, আসামে হওয়া এনআরসির ব্যর্থতা ঢাকতে ও বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ভোটব্যাংককে বার্তা দিতে তড়িঘড়ি সিএবি আনার সিদ্ধান্ত নেয় মোদি সরকার। ওই বিলে কেন শুধু হিন্দু, শিখ, পার্সি, খ্রিস্টান, জৈন ও বৌদ্ধ অর্থাৎ অমুসলিমদের সুবিধা দেওয়া হলো, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, মুসলিমদের সঙ্গে বিভাজনের রাজনীতি করার উদ্দেশ্যেই বিলটি আনা হয়েছে। সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর তা নিয়ে আইনি লড়াই শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)। এবার ওই বিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে চলেছে আইইউএমএল।

ওদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে আগেই জ্বলে উঠেছিল আসাম ও ত্রিপুরা। সংসদে বিলটি পাসের সময়ই রাজ্য দুটির একাধিক বাস ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে  ত্রিপুরায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ। গুয়াহাটিতে কারফিউ জারি হয়। বহু জায়গায় বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা। আসামে কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে এসেছে সাধারণ মানুষ। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতেই বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর তার প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। রাজ্যসভায় আজ নাগরিকত্ব বিল পাসের ঠিক আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একেবারে স্পষ্ট করেই বলেছেন, কোনো রাজ্য বাদ যাবে না। পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশে এই আইন প্রয়োগ হবে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, কেন্দ্র গোটা দেশের জন্য এনআরসি তৈরির কথা বললেও পশ্চিমবঙ্গে তিনি তা করতে দেবেন না। বাংলায় নাগরিকত্ব আইনের প্রয়োগ রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

বাংলাদেশ ভারতের নিকটতম প্রতিবেশী হওয়ায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া এখানেও পড়তে পারে। তবে আমরা মনে করি সহনশীল উদার গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত তার বৈশিষ্ট্য বজায় রাখবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার মতো কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা