kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

ওষুধের দামও লাগামছাড়া

ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হোক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিত্যপণ্যের বাজারদর সাধারণের সাধ্যের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি এখনো। কবে সম্ভব হবে বা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এরই মধ্যে ওষুধের বাজারও উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। বেশ কিছু ধরনের জরুরি ওষুধের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। ওষুধ প্রস্তুতকারীদের কেউ বলছেন, অন্যরা বাড়িয়েছে দেখে তাঁরাও দাম বাড়িয়েছেন। আবার কেউ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা মানসম্পন্ন কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন।

কালের কণ্ঠর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্টিওপোরোসিসের অর্থাৎ হাড়ক্ষয় রোগের ওষুধ হিসেবে বেশ জনপ্রিয় আইব্যান্ড্রনিক এসিড জেনেরিক। দেশের ১৮ থেকে ২০টি কম্পানি এ জাতের ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করে। তিনটি ছাড়া অন্য কম্পানিগুলো ১৫০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট তৈরি করে। এত দিন প্রতিটি ট্যাবলেট বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। এক-দেড় মাসের মধ্যে এর দাম দুই-তিন গুণ বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অপসোনিন ফার্মার ‘বোনফিক্স’ ওষুধটির দাম ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ২০০ টাকা হয়ে যায়। হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের একই জেনেরিকের ‘বোনড্রোভা’র দাম বেড়ে এক হাজার ৯৬০ টাকা এবং ল্যাবএইড ফার্মার ‘বোনাইড’-এর দাম এক হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের দামও বেড়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক এজিথ্রোমাইসিন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরাপ ফরম্যাটে পাওয়া যায়। শতাধিক কম্পানি এসব ওষুধ তৈরি করে। ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলগুলোর কোনোটি ৫০০ মিলিগ্রামের, কোনোটি ২৫০ মিলিগ্রামের। এক মাসের মধ্যে বেশির ভাগ কম্পানি একেকটি ট্যাবলেটের দাম দুই থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়েছে। গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যাল ডায়াবেটিসের হাইড্রোক্লোরাইড জেনেরিকের ৮৫০ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেট বিক্রি করে আড়াই টাকায় ও ৫০০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট দেড় টাকায়। একই ওষুধ অন্যান্য কম্পানি যথাক্রমে তিন টাকায় এবং পাঁচ টাকায় বিক্রি করছে। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ অমিপ্রাজলের দামেও নৈরাজ্য চলছে। ডেক্সমেথাসন+সোডিয়াম ফসফেটের দামও বেড়েছে। শুধু এ কয়টি নয়, এক মাসের মধ্যে বেশির ভাগ ওষুধের দাম বেড়েছে।

ওষুধ একটি জরুরি পণ্য। এর মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরেক দফা বাড়িয়ে দেবে। তাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে। অথচ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দাম বাড়ার খবর রাখে না; বিষয়টি তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

আমরা মনে করি, ওষুধ প্রশাসনের উচিত কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করা। ওষুধের দাম বাড়ানোর কারণ না থাকার পরও যারা বাড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা