kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

আইসিজেতে মিয়ানমার

এবার রায়ের অপেক্ষা

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইসিজেতে মিয়ানমার

শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক কোনো আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড়াল মিয়ানমার। গত মঙ্গলবার থেকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার মামলার শুনানির প্রথম দিন রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যার বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন বাদী দেশ গাম্বিয়ার আইনজীবীরা। গাম্বিয়ার পক্ষে অত্যন্ত শক্তিশালী আইনজীবী দল রয়েছে। দলের সদস্যরা আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে অভিজ্ঞ এবং গণহত্যা বিষয়ে আইন বিশারদ। আদালতে উপস্থাপনের জন্য রোহিঙ্গা ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা রয়েছেন। গণহত্যার সপক্ষে জাতিসংঘের একাধিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের জোরালো প্রতিবেদন রয়েছে। আইনজীবীদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী আদেশ লাভ করা। আদালতকে তাঁরা বলেছেন, এখনো গণহত্যা হচ্ছে, মিয়ানমারকে তা বন্ধ করতে বলতে হবে। গণহত্যায় জড়িতদের যথাযথ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দিতে হবে এবং গণহত্যার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। গাম্বিয়ার আইনজীবীরা বারবার বলেছেন, ‘স্টপ জেনোসাইড’। গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যেসব অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যাসহ সব ধরনের নিপীড়ন বন্ধ রাখা, গণহত্যার কোনো আলামত নষ্ট না করা, জাতিসংঘের তদন্তকারীসহ অন্যদের আরাকানে ধ্বংসপ্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে অবাধে প্রবেশাধিকার দেওয়া। গতকাল বুধবার আদালত মিয়ানমারের যুক্তি শুনেছেন। এদিন আদালতে দাঁড়িয়ে মিয়ানমারের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে সাফাই গেয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের আদালতে গাম্বিয়ার মামলা ‘ভুল দিক’ নির্দেশ করছে। আজ বৃহস্পতিবার আদালত বসবেন দুই বেলা। সকালে গাম্বিয়া ও বিকেলে মিয়ানমারের জবাব ও নতুন কোনো যুক্তি থাকলে সেগুলো শোনা হবে।

ওদিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ নৃশংস অপরাধ প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিতে মিয়ানমারের কার্যত সরকারপ্রধান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাত নোবেল বিজয়ী। এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার, ভূমির মালিকানার অধিকার, মুক্তভাবে চলাচলের অধিকার ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে নোবেল বিজয়ীরা রোহিঙ্গাদের প্রতি সু চির ব্যক্তিগত ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর নজরদারির অধীনে গণহত্যার বিষয়টি স্বীকার করতে এবং এর নিন্দা জানাতে অনুরোধ করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এখানে দেখার বিষয় অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের আবেদনে আন্তর্জাতিক আদালত কিভাবে সাড়া দেন। মূল মামলার রায় কী হয় তা জানতে হয়তো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের রায় মেনে মিয়ানমার ব্যবস্থা না নিলে নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী ভূমিকা পালন করে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত অন্তর্বর্তী রায়ের অপেক্ষা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা