kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিক্ষাবিদ অজয় রায়ের প্রয়াণ

দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলে গেলেন প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অজয় রায়। বাংলাদেশে মানবাধিকার, মুক্তচিন্তা আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারের কাজে যাঁদের অবদান অনস্বীকার্য, তাঁদের একজন তিনি। বিজ্ঞানমুখী শিক্ষার আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সামনের কাতারে। ১৯৫৯ সালে তিনি যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে। ২০০০ সালে অবসরের পরও ইউজিসি অধ্যাপক ছিলেন। পদার্থবিদ্যায় তাঁর দুটি গবেষণা নোবেল কমিটিতেও আলোচিত হয়। শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। বিষয়ের জ্ঞানে উঁচু মানের পদার্থবিদ ছিলেন তিনি। কিন্তু শুধু পদার্থবিজ্ঞানে তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না। সাহিত্য, ইতিহাস থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল তাঁর। সম্পাদনা করেছেন চার খণ্ডের পদার্থবিদ্যা এবং বাংলা একাডেমির বিজ্ঞান বিশ্বকোষ। লিখেছেন, ‘Concepts of Electricity and Magnetism’, ‘বাঙালির আত্মপরিচয় : একটি পুরাবৃত্তিক ও নৃতাত্ত্বিক আলোচনা’, ‘আদি বাঙালি : নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ’, ‘বিজ্ঞান ও দর্শন’, ‘জড়ের সন্ধানে’। সম্পাদনা করেছেন চার খণ্ডের পদার্থবিদ্যা এবং বাংলা একাডেমির বিজ্ঞান বিশ্বকোষ। শিক্ষায় অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে তাঁকে।

অজয় রায় সেই মাপের একজন মানুষ, যাঁর দেশপ্রেম এ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাণিত করবে অনেক দিন। ১৯৭১ সালে তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তখনই যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। ছিলেন সশস্ত্র যোদ্ধা। কুমিল্লার সোনামুড়া সীমান্তে প্রশিক্ষণ শেষে একাধিক অপারেশনে যোগ দেন তিনি। পরে মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা সেলের সাম্মানিক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ। যুদ্ধের ময়দান থেকে কলকাতায় ফিরে অধ্যাপক এ আর মল্লিকের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। তিনি ছিলেন এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষকদের এই মোর্চা বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। স্কুলজীবনে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া মনে-প্রাণে-কাজে অসাম্প্রদায়িক এই শিক্ষাবিদ জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত লড়ে গেছেন অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ নির্মাণে। রাজনীতিসচেতন এই মহত্প্রাণ মানুষটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও নিজেকে যুক্ত রেখেছেন সব সময়। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠাকাল থেকে। সম্প্রীতি মঞ্চের সভাপতি হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। আবার বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদেরও ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

দৃঢ়চেতা, যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে অজয় রায়কে মনে রাখবে বাংলাদেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা