kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাষ্ট্রপতির উপলব্ধি

গৌরব ফিরে পাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাষ্ট্রপতির উপলব্ধি

একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হতো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। অথচ এখন বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান গিয়ে ঠেকেছে প্রায় তলানিতে। প্রতিনিয়ত এখানে শিক্ষার মান নিম্নগামী হচ্ছে বলে মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকিং করা দুই প্রতিষ্ঠান ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ ও ‘কিউএস র‍্যাংকিং’য়ের তালিকায় ভালো অবস্থানে নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অন্যতম সেরার তকমাধারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কিউএস র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান ৮০০-১০০০, দক্ষিণ এশিয়ায় ১৩৫। আর টাইমস হায়ারের বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান আরো খারাপ—১০০১ প্লাস। এখানকার শিক্ষার মান নিয়ে হতাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই বর্তমান ও সাবেক অনেক শিক্ষক মনে করেন, অনিয়মের কারণেই ডুবছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার মান ক্রমেই নিচে নামছে। ৫২তম সমাবর্তনে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বক্তৃতায়ও ফুটে উঠেছে স্পষ্ট হতাশা। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু জ্ঞান দান করা নয়; বরং অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোই হচ্ছে আসল কাজ। গবেষণা হচ্ছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বর্তমান ভূমিকার সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, অনেক শিক্ষকই প্রশাসনিক পদ-পদবি পেয়ে নিজে যে একজন শিক্ষক, সে পরিচয় ভুলে যান। কোনো কোনো উপাচার্য ও শিক্ষকের কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হয়, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল কাজ কী, তা ভুলে গেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন কোর্সের দিকে ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, এক শ্রেণির শিক্ষক কিন্তু ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। তাঁরা নিয়মিত নগদ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছেন। আবার কিছু শিক্ষক আছেন, যাঁরা নিয়মিত কোর্সের ব্যাপারে অনেকটা উদাসীন। কিন্তু ইভিনিং কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা খুবই সিরিয়াস। কারণ এগুলোতে নগদ প্রাপ্তি থাকে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ডাকসু নেতাদের দায়িত্ব-কর্তব্যের বিষয়েও কথা বলেছেন তিনি।

সার্বিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কী? শিক্ষার্থীরা বলছেন, আবাসিক হলগুলোতে লেখাপড়ার পর্যাপ্ত পরিবেশ নেই। ক্লাসরুমের সংকট। আবাসিক হলের কক্ষগুলো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের দখলে। আসন বণ্টনের নিয়ন্ত্রক ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধভাবে থাকছে অনেকে, অন্যদিকে বৈধ শিক্ষার্থীরা থাকার জায়গা পাচ্ছে না। শিক্ষকরা বলছেন, ক্লাসরুমে পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণায় আগ্রহ থাকলেও গবেষণার জন্য বরাদ্দ না থাকায় তা হয় না। অবশ্য কোনো কোনো শিক্ষক নিজ উদ্যোগে জ্ঞান সৃষ্টির কাজ করেন। এমন উদ্যোগ আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে যেসব বিষয় উঠে এসেছে তা প্রণিধানযোগ্য। আমরা চাই সব ব্যর্থতা দূরে সরিয়ে হারানো গৌরব ফিরে পাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা