kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ

মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণার পরও মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সীমান্তপথে প্রবেশ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা মাদক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকের সরবরাহ পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে শতভাগ সাফল্য দেখাতে পারেনি। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। এমনকি চাকরি ক্ষেত্রেও ঢুকে পড়ছে অনেক মাদকাসক্ত তরুণ। এতে অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে মাদকাসক্তরা আসীন হচ্ছে, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অথচ ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়। বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করতে ডোপ টেস্ট ব্যবস্থা চালুর বিধানের কথা বলা হয়েছে কিন্তু তা চালু হয়নি। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মাদকাসক্ত চিহ্নিত করতে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মাদকাসক্তের সংখ্যা কমবে বলে আশা করছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইনের আলোকে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

মাদকমুক্ত সমাজ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি প্রতিটি পরিবারকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। সর্বনাশা মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে প্রথমবারের মতো ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত কি না তা যাচাই করে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে সেখানে। নবাগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ মাদকাসক্ত কি না তা জানতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইভাবে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে তার প্রভাব সমাজে পড়বে। তবে সবার আগে সক্রিয় ও তৎপর হতে হবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে তা সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব মহলকেই এগিয়ে আসতে হবে। মাদক প্রতিরোধে সবাইকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা