kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাড়ছে খুনখারাবি ও ধর্ষণ

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি দিন

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেশে খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এক দিনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো সুখকর নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় যখন জনমনে অস্বস্তি তখনই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

প্রকাশিত খবরগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। বরিশালের বানারীপাড়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে তাঁর মাসহ তিন স্বজনের লাশ পেয়েছে পুলিশ। তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু ঘিরে সৃষ্ট রহস্যের জট খোলেনি। গত বুধবার রাতে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের এক গলি থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করা হয়। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক নারীকে ঘরে ঢুকে ‘ধর্ষণের’ পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এক কিশোরীকে ১০ দিন আটক রেখে এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় কিশোরী প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরে ব্যবসায়ী আনন্দ সরকার (২৩) হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্টুডিওর ভেতর থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিখোঁজ এক শিশুর বালুচাপা মরদেহ ১৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার করে পুলিশ। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্কুল গেটের সামনে থেকে এক ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় ওয়াজ মাহফিলে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে এক তরুণ।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটল কেন? কেন খুনখারাবির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না? বন্ধ হচ্ছে না নৃশংস অমানবিকতা? এতে জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ যে আরো তীব্র হবে, সেটা নিশ্চয় নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ধারণা করা যেতে পারে, এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ-প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে সমাজের কিছু মানুষ। ক্ষমতার রাজনীতিও কাউকে কাউকে প্রতাপশালী করে তুলছে। এমনটি চলতে থাকলে শিগগিরই যে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার এটাও সত্য যে কিছু মানুষের মধ্যে নৈতিকতা বলতে কিছু নেই।

আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সক্রিয় ও তৎপর হতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব দিক বিবেচনায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা