kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

দূষণে মৃতপ্রায় বুড়িগঙ্গা

আদালতের নির্দেশনা মানুক ওয়াসা

৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একসময়ের খরস্রোতা বুড়িগঙ্গা এখন মৃতপ্রায়। একদিন এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল আজকের রাজধানী ঢাকা। মিশমিশে কালো পানি, উৎকট গন্ধ; সদরঘাট টার্মিনালসহ বিভিন্ন ঘাটের পাশজুড়ে আবর্জনার স্তূপ। ঘাটে ভিড়ে থাকা নৌযান থেকে নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হয় নদীতে। বর্ষার পানিও দূষণ সামলাতে পারে না। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে পানি আঠার মতো থিকথিকে হয়ে যায়। বুড়িগঙ্গার দূষণের তথ্য নতুন নয়। প্রতি মিলিলিটার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ০.১২ থেকে ০.৪০ মিলিগ্রাম। অথচ মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।

বুড়িগঙ্গার দূষণের কারণ অনেক। সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও সেসবের কার্যকারিতা দৃশ্যমান নয়। ট্যানারি সাভারে সরিয়েও লাভ হচ্ছে না। সেখানে এটিপি কার্যকর না থাকায় দূষিত হচ্ছে ধলেশ্বরী, যার পানি বুড়িগঙ্গাতেই এসে পড়ে। তুরাগ নদের পানিও ভয়ানক দূষিত। বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের সমীক্ষা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ কারখানা থেকে অপরিশোধিত পানি নদীতে পড়ে; ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের ৩০ শতাংশ বর্জ্যও পড়ে। অবশ্য ওয়াসা দায় স্বীকার করতে চায় কি না স্পষ্ট নয়।

গত ১৮ জুন ওয়াসা আদালতকে জানায়, বুড়িগঙ্গায় তাদের কোনো স্যুয়ারেজ লাইন নেই। পরে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, তীরবর্তী ৬৮টি স্থান দিয়ে দূষিত বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা হচ্ছে; ৫০টিই ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইন। দুই প্রতিবেদন দেখে গত ১৭ নভেম্বর ওয়াসার এমডিকে শোকজ করেন হাইকোর্ট। গত সোমবার হাইকোর্টে দেওয়া ওয়াসার এমডির বক্তব্যে বলা হয়, ওয়াসার লাইন ১৬টি। তবে ২০১১ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায় যথাযথভাবে কার্যকর না করায় নিঃশর্ত ক্ষমা চান এমডি।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) তাদের রিটের রায়-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এখনো কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তরল বর্জ্য নদীতে ফেলার বিষয়টি আদালতের নজরে আনে। মঙ্গলবার শুনানি হয়। আদালত বলেন, ৬৮টি স্যুয়ারেজ লাইন বা ড্রেন বন্ধ করার দায়িত্ব ওয়াসার। আরো ড্রেন বা স্যুয়ারেজ লাইন থেকে থাকলে ৭ জানুয়ারির মধ্যে বন্ধ করতে বিআইডাব্লিউটিএকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতকে অবহিত করা ২৭টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া আর কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে কি না সে তালিকা পরিবেশ অধিদপ্তরকে দাখিল করতে হবে।

আদালত এ দফায় ওয়াসার এমডিকে শাস্তি দেননি; বরং তিনি কী ব্যবস্থা নেন সেটা দেখতে চান। বিষয়টি আমলে নিয়ে ওয়াসা ও তার এমডিকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে সরকারি অন্যান্য কর্তৃপক্ষকেও তৎপর হতে হবে। আমরা বুড়িগঙ্গার সুরক্ষা চাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা