kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

পেট্রল পাম্পে ধর্মঘট

যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধান দরকার

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পনেরো দফা দাবিতে তিন বিভাগের পেট্রল পাম্পে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে রবিবার সকালে ধর্মঘট শুরু হয়। অন্য বিভাগগুলোও এতে সমর্থন জানায়। বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এবং জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির আহ্বানে এ ধর্মঘট শুরু হয়। ফলে উল্লিখিত বিভাগগুলোর ২৬ জেলায় তেলচালিত যানবাহন চলাচলে প্রায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। ডিপো থেকে তেল উত্তোলন এবং পরিবহনও বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন গাড়িচালকরা। এটিকে সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগান কোনো কোনো দোকানি। তাঁরা মজুদ করা জ্বালানি তেল চড়া দামে বিক্রি করেন।

গতকাল সোমবার সরকারপক্ষ ও ধর্মঘটিরা আলোচনায় বসে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সঙ্গে আলোচনায় কিছু দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়া যাওয়ায় দুপুর ২টার দিকে ধর্মঘট ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা দেয় পেট্রল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিকরা। ঢাকায় বিপিসির লিয়াজোঁ কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠক থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, ১৫ দফা দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তাদের আলোচনা হলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। সে কারণেই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়। ২৬ নভেম্বর সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দাবিনামা মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আলটিমেটাম দেওয়া হয়। দাবিনামার মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ দেওয়া, প্রিমিয়াম পরিশোধের পক্ষে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের জন্য পাঁচ লাখ টাকার দুর্ঘটনাবীমা প্রথা চালু করা, ট্যাংকলরির ভাড়া বাড়ানো, পেট্রল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, জেনারেল স্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রল পাম্পের প্রবেশমুখের ভূমির জন্য ইজারা নেওয়ার প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান থেকে লাইসেন্স নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা।

ধর্মঘটিদের কিছু দাবি যৌক্তিক এবং আমলযোগ্য। আবার কিছু বিষয়, যেসব বিদেশের পেট্রল পাম্পেও মানা হয় সেসব বাতিলের দাবি মেনে নেওয়ার কারণ নেই। আপাতত সমঝোতা হয়েছে বটে; কিন্তু সরকার ও ধর্মঘটিদের স্থায়ী সমাধানে পৌঁছতে হবে।

গাড়ি ব্যবহারকারী, যাত্রীসাধারণ এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টিকারী পরিস্থিতি জিইয়ে রাখা কল্যাণকর কাজ নয়। আমরা কার্যকর সমঝোতা আশা করি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা