kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ব্যাংকঋণে এক অঙ্কের সুদ

অর্থনৈতিক গতিশীলতার স্বার্থেই জরুরি

৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ব্যাংকঋণে এক অঙ্কের সুদ

ব্যাংকঋণ ও আমানতে সুদের হার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দেশের অর্থনীতি অনেক ক্ষেত্রে অগ্রসর হলেও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে যেতে পারেনি। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সাফল্য আসেনি। অথচ ব্যাংকঋণে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল গত বছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা-মালিকরা অঙ্গীকার করেছিলেন, ব্যাংকঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনবেন তাঁরা। ঋণের সুদহার সিঙ্গল ডিজিটে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংকের মালিকরা গত বছর সরকারের কাছ থেকে একের পর এক অনেক সুবিধাও আদায় করেছেন। গত বছরের জুন মাসে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের ঘোষণা দিয়ে একই বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু ওই বছরের ১ জুলাই থেকে সরকারি চার ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকই তা কার্যকর না করায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব, সব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করে ২০১৮ সালের ৯ আগস্ট থেকে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ এবং ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর করতে হবে বলে জানিয়েছিলেন। এরপর আরো কিছু ব্যাংক এই ৯ শতাংশ সুদহার কার্যকর করে। গত বছরের নভেম্বর থেকে ঋণের সুদ আবার বাড়তে শুরু করে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাংকই সেই অঙ্গীকার পূরণ করেনি। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুদের হার কমার বদলে উল্টো বেড়েই চলেছে। এতে নতুন শিল্প স্থাপন ও চলমান শিল্প সম্প্রসারণে অনেকেই আগ্রহ হারাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, বিনিয়োগে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করে উচ্চ সুদহার। বিনিয়োগ বাড়ানোর স্বার্থেই ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা জরুরি। আর ব্যাংকাররা বলছেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও সঞ্চয়পত্রের বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণ না হওয়ায় তাঁদের তহবিল খরচ বেশি বেড়ে যাওয়ায় ঋণের সুদহার এক অঙ্কে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ হলো ঋণের উচ্চ সুদহার। ঋণের সুদহার কমলে খেলাপি ঋণ এমনিতেই কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি। সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কৌশল ঠিক করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। সুদের হার কিভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে ওই প্রতিবেদনে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি শুধু নয়, অর্থনীতিতে গতি আনতে ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যাংকঋণে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা দরকার।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা