kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

কপ-২৫ ও জলবায়ু পরিবর্তন

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে উদ্যোগ নিন

১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের ২৫তম বার্ষিক সম্মেলন স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২৫তম জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ-২৫ নামে পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের ২৫তম বার্ষিক সম্মেলনকে অন্তর্ভুক্ত করবে কিয়োটো প্রটোকলের পক্ষের ১৫তম সভা এবং প্যারিস চুক্তির পক্ষে পক্ষগুলোর দ্বিতীয় সভা। এই সম্মেলনটি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়ার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছর পোল্যান্ডের ক্যাটোভিসে কপ-২৪ সম্মেলনে অনেক বিজ্ঞানী এই বলে সতর্ক করে দেন যে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে কম, অর্থাৎ শিল্পবিপ্লবপূর্ব সময়ের মাত্রায় কমিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও স্বল্পোন্নত দেশ আরো প্রতিকূল প্রভাব ও বড় ধরনের বিরাট ঝুঁকিতে পড়বে।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় হুমকি জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর বিরূপ প্রভাব। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আবহাওয়ার মৌসুমি ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে বিশ্বের যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীলতাই এর মূল কারণ। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাইরে নেই বাংলাদেশ। উত্তরে হিমালয় ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থাকার কারণে ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ সব সময়ই বিপদাপন্ন। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অসম বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিক্ষয়, জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে অনাবৃষ্টি, খরা, টর্নেডো, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসের প্রাদুর্ভাব ও মাত্রা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, শীত মৌসুমে হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা, আকস্মিক বন্যা ইত্যাদি এ দেশের কৃষিব্যবস্থাকে ক্রমাগত বিপর্যস্ত করে তুলছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হবে বিপুলসংখ্যক নিম্ন আয়ের মানুষ। ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ অঞ্চলের কৃষি। আর বিপুলসংখ্যক মানুষ রূপান্তরিত হবে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে।

জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বৈশ্বিক আলোচনা ও দেনদরবারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে এ বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে বাংলাদেশকে। ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। বিশ্বকে জানাতে হবে আগামী দিনের আশঙ্কার কথা। বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা