kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

মশার উৎপাত বেড়েছে

নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলতি বছরের শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমছে। কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আর সে কারণেই পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মাঝারি নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবেই দেখছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসংশ্লিষ্টরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত ৩০ বছরে বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে ৩০ গুণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরো বলেছে, মশা হলো বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী।

দেশে এডিসবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে গেলেও মশার উৎপাত কমেনি বরং আরো বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ডেঙ্গু রোধে সরকারি উদ্যোগ ও আদালতের নির্দেশনায় সিটি করপোরেশনগুলোর তৎপরতায় বর্তমানে ভাটা পড়েছে। অন্যদিকে কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, এখন এডিসের দাপট কম হলেও কিউলেক্স মশার যে দাপট শুরু হয়েছে, তা দমাতে উদ্যোগ না নিলে আরো দুই-তিন মাস মানুষকে দিশাহারা করে রাখবে। ঢাকাসহ দেশের অন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে মশা নিধন বা নিয়ন্ত্রণে আগের চেয়ে বেশি কাজ করতে হবে। তাঁদের মতে, এডিসের চেয়ে কিউলেক্সের প্রজনন হার যেমন বেশি আবার বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আমাদের দেশে অনেক বেশি। বিশেষ করে এই মশা ঘরে-বাইরে যেকোনো ময়লা-আর্বজনা, ডোবা-নালা-নর্দমায় হয়ে থাকে। এখনই যদি এই মশা নিয়ন্ত্রণে জোরালো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না যায়, তাহলে আগামী দুই-তিন মাস পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। তখন তা সামাল দেওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ এ সময় এডিসের প্রজনন কম থাকলেও কিউলেক্সের প্রজনন অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে নালা-নর্দমা, ময়লা-আবর্জনা এই কিউলেক্সের প্রজনন ও বংশ বিস্তারের জন্য উপযুক্ত। সেই সঙ্গে তাপমাত্রাও থাকে কিউলেক্সের উপযুক্ত।

শুধু সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা নয়, দেশের নাগরিকদেরও মশা নিধনে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি শুধুই সেটি করপোরেশন বা পৌরসভার একার নয়। এখানে নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে গার্হস্থ্যবর্জ্য বা আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলার বিষয়টি সবাইকে মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে মশক নিধনে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি জনসচেতনা সৃষ্টির কাজটিও করতে হবে। আমাদের কয়েক মাস আগের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভালো নয়। এখনই সাবধান না হলে ভবিষ্যতে মশার উৎপাত আরো বাড়বে। আমরা আশা করব, সবাই যার যার অবস্থান থেকে মশক নিধকে ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা