kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ

পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা করুন

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে একটি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন আছে। এই আইনটি পড়লে সাধারণভাবে যেকোনো নাগরিকেরই মনে হতে পারে দেশে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে না। ২০০২ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিছু শর্ত সাপেক্ষে পলিথিনের সব ধরনের শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রি, বিক্রির জন্য প্রদর্শন, মজুদ ও বিতরণ নিষিদ্ধ করে। সেই সময় আইনটি বেশ সফলভাবে প্রয়োগও হয়। কাগজের ঠোঙা আর কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠে ক্রেতারা। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। বাজারে হাতের নাগালেই মিলছে পলিথিন ব্যাগ। ঘরে আনা এসব পলিথিন ব্যাগ যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তাতে এরই মধ্যে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে শুরু করেছে। শুধু পলিথিন ব্যাগ নয়, প্লাস্টিক সামগ্রীও আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার নিয়ন্ত্রণে থাকা ২৬টি খালের বেশির ভাগেরই পানিপ্রবাহ নেই পলিথিনের কারণে। এ ছাড়া কল্যাণপুরের ছয়টি খাল, কাঁটাসুর খাল, দ্বিগুণ খাল, জিরানি খাল, সবুজবাগ বাসাবো খাল, রূপনগর খাল, রূপনগর ব্রাঞ্চ (আরামবাগ) খাল এবং দেবধোলাই খালও পলিথিনদূষণে বিপর্যস্ত। নগরবাসী সরাসরি খালে নিক্ষেপ করে পলিথিনসহ অন্যান্য বর্জ্য। এসব খাল পরিষ্কার করার মাসখানেকের মধ্যেই আবারও পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্যে অচল হয়ে যায় বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিন বাজারের ল্যান্ডফিল উপচে পলিথিন গিয়ে পড়ছে পাশের খাল ও নদীতে। ফলে জেলেরা মাছ ধরার জন্য এসব জলাশয়ে জাল ফেললেও উঠে আসে পলিথিন। জলাশয়ে পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্যের কারণে হুমকিতে রয়েছে জলজ প্রাণী। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত আরেকটি খবরে বলা হয়েছে, পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্থ ডে নেটওয়ার্ক এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ১০ নম্বরে। অর্থাৎ ক্ষতিকর প্লাস্টিকও বিপর্যয় ডেকে আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, রাষ্ট্রে পলিথিন উৎপন্ন, বিপণন ও ব্যবহার হচ্ছে; কিন্তু রাষ্ট্র নীরব। বিক্ষিপ্তভাবে পলিথিন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বিভিন্ন সময়; কিন্তু অভিযান সব খুচরা বাজারকেন্দ্রিক। পলিথিন বন্ধ করতে হলে অবশ্যই কারখানা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। খাল, বিল, নদী, এমনকি সাগরের দূষণের অন্যতম কারণ পলিথিন ও প্লাস্টিক। সরকার উদ্যোগ না নিলে পুরো দেশের মাটি ও পানি দূষিত হবে। কৃষির উৎপাদনও বিনষ্ট হবে। অন্যদিকে মাটিতে প্লাস্টিকের তৈরি টক্সিক রাসায়নিক পদার্থ গাছে মিশে যাচ্ছে। প্লাস্টিক মানুষের শরীরে আরো অনেক মরণ ব্যাধির পাশাপাশি ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

পলিথিন ও প্লাস্টিকের দূষণ বন্ধে নাগরিক সচেতনতার পাশাপাশি আইনের সঠিক প্রয়োগও জরুরি বলে আমরা মনে করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা