kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

নকল ও ভেজাল ওষুধ

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই কাম্য

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওষুধের সুনাম রয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধ বিক্রিতে নৈরাজ্য চলছে। নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের কারণে মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। দেশে এসব ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র। কঠোর মনিটরিং ও কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় তারা বেপরোয়া। ভেজাল ও নকল ওষুধের কারণে অনেক সময় রোগী সুস্থ না হয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। মৃত্যুর ঘটনাও কম নয়। কিন্তু দায়ী ব্যক্তিরা পার পেয়ে যাচ্ছে আইনের ফাঁক গলে।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নকল ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এবং ওষুধ সমিতি-সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মাঠ পর্যায়ে সরকারের ওষুধ পরিদর্শকদের যোগসাজশে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে নকল ও ভেজাল ওষুধের বিশাল নেটওয়ার্ক। ওষুধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদের তৎপরতা কমানো সম্ভব। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বহীনতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ওষুধবিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচারে নানা বাধাবিপত্তি থাকায় ক্রেতারা জানতে পারছে না কী ওষুধ কিনছে তারা। এ ক্ষেত্রে কমিশনলোভী ডাক্তারদের ভূমিকাও কম নয়।

এ পরিস্থিতির অবসান অবশ্যই দরকার। হাইকোর্ট অভিমত দিয়েছেন—যারা ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি করে তাদের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিত। কোনো ফার্মেসিতে দ্বিতীয় দফায় ভেজাল ওষুধ পাওয়া গেলে সেটির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা উচিত। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ অভিমত দেন। একটি রিটের শুনানিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ‘মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ে গৃহীত কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রতিবেদন দাখিল করা হলে এ মন্তব্য করা হয়। বিভিন্ন কম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করার জন্য চিকিৎসকদের কমিশন খাওয়ার সমালোচনাও করেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে আগামী ১২ ডিসেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

ভেজাল ও নকল ওষুধ পরীক্ষার বিষয়ে সরকারের সামর্থ্য ও তৎপরতা বাড়ানো দরকার। দেশে বছরে উৎপাদিত ওষুধের এক ভাগ পরীক্ষা করার সামর্থ্য আছে সরকারের। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বলে, সারা বছরই নজরদারি করে তারা। এ সামর্থ্য নিয়ে কী নজরদারি করে তারা? ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যদি যথামাত্রায় অভিযান চালাত তাহলে নকল ও ভেজাল ওষুধের উৎপাদন ও বিপণন নৈরাজ্যকর মাত্রায় থাকত না। পর্যাপ্ত ও কার্যকর নজরদারি আবশ্যক, কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা দরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা