kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

রক্ষাকবচ সুন্দরবন

সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুন্দরবন শুধু প্রাণবৈচিত্র্যের আধারই নয়, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢালও বটে। বিশ্বের বৃহত্তম এ শ্বাসমূলি বন ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রবল প্রতিরক্ষাব্যূহ হয়ে ওঠে। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা ও বুলবুলের প্রচণ্ড আক্রমণ অনেকাংশে প্রতিহত করেছে সুন্দরবন, নিজের ক্ষতি মেনে নিয়ে। ফলে প্রতিবার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ও ফসলের যতটা ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল ততটা হয়নি। অতি সম্প্রতি তার প্ররক্ষক ভূমিকা লক্ষ করা গেছে—সুন্দরবন আমাদের রক্ষাকবচ।

কিন্তু সোয়া ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ বনের দেখভাল করার ব্যাপারে রাষ্ট্র মনোযোগী নয়। সরকার ও সন্নিহিত মানবসমাজে অনীহা লক্ষণীয়—যে করে রক্ষা তাকেই করা হয় অবহেলা। শুধু সুন্দরবন নয়, সারা দেশেই বন-বাদাড় উজাড় করা হচ্ছে; বনের জমি দখল করা হচ্ছে, বন্যপ্রাণী পাচার করে প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট করা হচ্ছে, অবৈধ শিকার চলছে; অবিচক্ষণতাপ্রসূত উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষতিকর প্রভাবও পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে বেশি অপপ্রভাব পড়ছে সুন্দরবনের ওপর।

নেতিবাচক বিভিন্ন প্রভাব থেকে সুন্দরবনকে আগলে রাখতে হলে উন্নয়ন-বিবেচনা যেমন দূরদৃষ্টিপ্রসূত হতে হবে, তেমনি এর সুরক্ষার বাস্তবিক কাঠামোকেও কার্যকর রাখতে হবে। পর্যাপ্ত জনবল ও উপকরণ সেই কাঠামোরই অংশ। এসব নিশ্চিত না হলে সুরক্ষামূলক নজরদারি সম্ভব হবে কী করে?

জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বিশেষ কর্মপরিকল্পনাসহ সুন্দরবনের নিরাপত্তা বাড়াতে ২০১১ সালে বন বিভাগ কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। বাড়তি জনবল চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। আট বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুমোদন পায়নি। সীমিত জনবল নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বন বিভাগ-সংশ্লিষ্টদের। প্রসঙ্গত, বন বিভাগে সর্বশেষ ২০০০ সালে বড় আকারে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরের ১৯ বছরে আর নিয়োগ হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নতুন জনবল নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। যদিও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। শিগগিরই নতুন জনবলকাঠামো চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। যদি মিলেও, প্রয়োজনীয় সংখ্যায় মিলবে কি না সে সন্দেহ রয়ে গেছে।

সুন্দরবন আমাদের রক্ষাকবচ। তার সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই—সরকার ও সমাজের। সে দায়িত্বের কথা মনে রেখেই পর্যাপ্ত জনবল বন বিভাগকে দিতে হবে। প্রস্তাব যত ঝুলে থাকবে, তত ক্ষতি হবে। অবৈধ শিকার, প্রাণীপাচার, কাঠপাচার, বনদস্যুতা প্রভৃতি অপরাধমূলক কাজ চলতে থাকবে, বাড়তেও পারে। এ বনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাসিন্দাদের কার্যক্রমও সমস্যাগ্রস্ত হবে। সুন্দরবন সুরক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা