kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

চট্টগ্রাম বন্দরে সিন্ডিকেট

শিপ হ্যান্ডলিংয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করুন

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। কারণ এর গতিশীলতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। মূল প্রতিবন্ধকগুলোর অন্যতম ‘সিন্ডিকেট সন্ত্রাস’। এটা কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে মালপত্র খালাসে শিপ হ্যান্ডলিং সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রভাব বিস্তার করে। এ কারণে ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; বন্দরের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ অভিযোগের আঙুল শুধু বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের দিকেই নয়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষের দিকেও।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গোর চাপ অন্তত দ্বিগুণ বেড়েছে। একই সময়ে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়ানো হয়েছে। কথা হচ্ছে, একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের সব খাতের সব বিভাগে লোকবল বৃদ্ধিসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও কেন শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের ক্ষেত্রে সংকোচন নীতি অবলম্বন করা হয়েছে? এটাকে ‘সন্ত্রাস’ অভিহিত করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ নীতির নেতিবাচক ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের।

বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ২০০৭ সালে গৃহীত ব্যবস্থার কারণে বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা এসেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যত্যয় ঘটছে। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের বেশি মূল্যও নিচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য খালাস করতে গেলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় আমদানিকারকদের। তাঁদের লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। অ্যাসোসিয়েশন তাদের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করে। বড় শিল্প গ্রুপগুলোর নিজস্ব অপারেটিং ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের পণ্যের নিরাপত্তা রয়েছে, অর্থ সাশ্রয়ও হয়। তার পরও অ্যাসোসিয়েশন নানা কায়দা করে তাদের হয়রানি করে। অন্য ব্যবসায়ীদের পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়; খরচও বেশি।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৩২টি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর কাজ করছে। ‘নন-রেসপন্স’ তালিকাভুক্ত ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ছয়টি রিট আবেদন করেছিল। তিনটি আদালতের নির্দেশে কাজ শুরু করেছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় অন্য তিনটি কাজ করতে পারছে না। বন্দরের স্টেকহোল্ডাররা বলছে, সব অপারেটরকে কাজ করতে দিলে বন্দরের গতিশীলতা আরো বাড়ত। আর অ্যাসোসিয়েশন বলছে, শিপ হ্যান্ডলিং বরাদ্দ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে তাদের হস্তক্ষেপের কিছু নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট সন্ত্রাসের অভিযোগ অনেক দিনের। এসব ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক নয়। সমাধান হওয়া উচিত। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজতর হলে দেশেরই লাভ। চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করতে সব সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা