kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

সড়ক পরিবহন আইন

বাস্তবায়নে সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




সড়ক পরিবহন আইন

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক। মহাসড়কে ডিভাইডার তৈরি করা হয়েছে। শ্লথগতির যানবাহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে প্রতিদিনের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের যে পরিসংখ্যান, তা কোনো সভ্য দেশের চিত্র হতে পার না। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। দেশের সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই শুধু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। পুরনো সড়ক পরিবহন আইনে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে আগের আইনের চেয়ে কঠোর করে নতুন সড়ক পরিবহন আইন করা হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আগের চেয়ে কঠোর সাজা রেখে করা নতুন সড়ক পরিবহন আইন গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। কাগজে-কলমে গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হলেও আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে দুই সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়। রবিবার সেই সময় শেষ হওয়ার পর সোমবার থেকে আইনটি কার্যকর বলে ধরা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোমবার থেকেই নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করার বিরোধিতায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করতে চাইলেও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। আমরা একটু পেছনের দিকে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, আইনটি প্রণয়নের পর থেকে এর প্রবল বিরোধিতা করে আসছিল পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনার মামলায় নতুন আইনে শাস্তির মাত্রা ‘অযৌক্তিক’ বেশি। আইন কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই তারা অলিখিত পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করতে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আইন বাস্তবায়নে জরুরি বিধিমালা তৈরি করতে পারেনি। মামলা করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পজ মেশিনও হালনাগাদ করতে পারেনি ট্রাফিক পুলিশ। এসব বাধা ছাড়াও আইন বাস্তবায়নে সহায়ক জনবল সংকটও রয়েছে বিআরটিএর। নতুন আইনে ভুল স্থানে পার্কিংয়ের জন্য আগের আইনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু ঢাকার পার্কিং নীতিমালাও দেড় বছরে অনুমোদন হয়নি। সব ছাড়িয়ে অলিখিত পরিবহন ধর্মঘটই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে কি ধরে নিতে হবে সরকারকে জিম্মি করে দাবি আদায় করতে চান পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা?

আমরা মনে করি, যেকোনো মূল্যে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া, গাড়ির ফিটনেস—কোনো ব্যাপারেই আপস করা যাবে না। অনিয়মকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা