kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ

দুর্ঘটনা এড়াতে রক্ষণাবেক্ষণে দৃষ্টি দিন

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের এক আবাসিক ভবনের নিচতলায় গ্যাস পাইপলাইনে মারাত্মক বিস্ফোরণে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণে ওই ভবনের নিচতলার দেয়াল ও সীমানাপ্রাচীর ধসে রাস্তার ওপর পড়লে পথচারী ও চলতিপথের যাত্রীরাও আহত হয়েছেন। এই ভবনের পাশের আবাসিক ভবনও বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাড়ির রাইজারে হয়তো কোনো সমস্যা ছিল। এমনও হতে পারে, কোনো লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে জমে ছিল। সকালে বাসার কেউ আগুন ধরালে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস মনে করছে। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাই মাসে নারায়ণগঞ্জে একটি কারখানার গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন আরো সাতজন। রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন সময়ে বাসাবাড়িতে গ্যাস সঞ্চালন লাইনে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তার পরও আমরা কি সচেতন হয়েছি। অনেক সময় দেখা যায় পুরনো গ্যাস সঞ্চালন লাইন থেকে গ্যাস বের হয়ে জমে থাকে। রান্নাঘরে চুলায় আগুন জ্বালাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের ঘটনাটি তেমন কোনো ঘটনা কি না তা নিশ্চয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সারা দেশেই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। আবার যানবাহনে ব্যবহৃত হচ্ছে সিএনজি। কিন্তু এসব গ্যাস সিলিন্ডারের বেশির ভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। আবার বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত অনেক গ্যাস সিলিন্ডার মানসম্মত নয়। স্বাভাবিকভাবেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা শতভাগ থেকে যায়। বিশেষ করে পুরনো গ্যাস সঞ্চালন লাইনগুলো নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আছে চোরাই সংযোগ। অনেক জায়গায়ই চোরাই গ্যাস সংযোগ দেওয়া আছে বলে অভিযোগ শোনা যায়। এসব জায়গায় অধিক শক্তিসম্পন্ন রাইজার দিয়ে গ্যাস নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রেও ঝুঁকি থেকে যায়।

গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত পরিদর্শন করা। আবার সংযোগগ্রহীতাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। চট্টগ্রামে কার অবহেলায় দুর্ঘটনা ঘটে ঝরে গেল অমূল্য জীবন, তা নিশ্চয় তদন্তে বের হয়ে আসবে। তবে চট্টগ্রামের এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো দুর্ঘটনা এড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা