kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয়

পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নিন

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয়

দুই মাস আগে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই বাজার সিন্ডিকেট নতুন করে আলোচনায় আসে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিলে বাংলাদেশের বাজারে তার প্রভাব পড়ে। কারণ ভারত থেকেই বেশির ভাগ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। সরকার টিসিবির মাধ্যমে ট্রাক সেলের ব্যবস্থা করেও বাজার সামাল দিতে পারেনি। সংকট শুরুর দুই মাসের মাথায় এসে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম আড়াই শ টাকায় উঠেছে। হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম এভাবে বেড়ে গেল কেন? ভোক্তা ও বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পেঁয়াজের এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে ব্যবসায়ীদের ‘কারসাজি’ আছে। সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলেও বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা। অন্যদিকে আমদানিকারক বা ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সঠিক পরিকল্পনার ঘাটতি ও সময়মতো বিকল্প দেশ থেকে আমদানির উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি নাজুক হয়েছে। এর পাশাপাশি উপমহাদেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতি, বৈরী আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন জটিলতাও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকের ধারণা। এমন এক পরিস্থিতিতে শুক্রবার জরুরি বৈঠক করে বিমানযোগে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ এনে সরকারি উদ্যোগেই বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাজারের এই পরিস্থিতিতে সরকার মিসর ও তুরস্ক থেকে বিমানযোগে পেঁয়াজ আনার উদ্যোগ নিয়েছে। শিগগিরই এই পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছবে। তারপর টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক ভিত্তিতে বিপণন করা হবে।

সরকারের নেওয়া এই পদক্ষেপে পেঁয়াজ নিয়ে সৃষ্ট সংকটের কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু বাজারের সংকট পুরো কেটে যাবে—এমন আশা করা যায় না। কারণ শুধু পেঁয়াজ নয়, অস্থিরতা শুরু হয়েছে চালের বাজারেও। বিপুল উৎপাদন ও পর্যাপ্ত মজুদের মধ্যেও চিকন চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ থেকে সাত টাকা বেড়েছে। আর মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা। মিলাররা শুধু দাম বাড়িয়েছেন তা-ই নয়, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে চাল সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অটো রাইস মিল মালিকরা আগে থেকে ধানের মজুদ গড়ে তুলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন—এমন অভিযোগও আছে। উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৬০০ অটো রাইস মিল মালিক ইচ্ছামতো মজুদ গড়ে চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। ছোট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সিন্ডিকেটটি চালের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলবে। 

সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিলেও তা পর্যাপ্ত ছিল কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন এটা স্পষ্ট যে সরকারকে অজনপ্রিয় করতে একটি মহল সক্রিয়। বাজারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজেই পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা করা দরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা