kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন

নামফলকসহ সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র কখনো থেমে থাকেনি। মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালির রক্তে রঞ্জিত ছিল যাদের হাত, সেই ঘাতক-দালালরা আবারও এ দেশের ক্ষমতায় এসেছিল। বিভিন্ন স্থাপনায় তাদের নামাঙ্কিত সাইনবোর্ডও ‘শোভা’ পেয়েছিল। লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল। অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সেসব নামফলক অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এখনো যেসব প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় স্বাধীনতাবিরোধীদের নামফলক রয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সেগুলোর নামকরণ করতে হবে। শিক্ষাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর যে যেসব স্বাধীনতাবিরোধী নিরপরাধ বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, মা-বোনের ইজ্জত লুটেছে, সম্পদ লুটেছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের নামে প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণ করা ও তা রক্ষা করা। দ্রুততম সময়ে আমাদের এই লজ্জা, এই গ্লানি থেকে মুক্ত হতে হবে। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে ও দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই নামকরণের উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের ধৃষ্টতার বিচার করতে হবে। এই কাজগুলো আরো অনেক আগেই সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল। যেকোনো কারণেই হোক, এত দিন তা আমরা করতে পারিনি। এখন দ্রুততম সময়ে তা সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্র যাতে আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পরেও আমাদের প্রশাসনে, রাজনীতিতে, সমাজে স্বাধীনতাবিরোধীরা মুখোশের আড়ালে অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। তারা নানা কৌশলে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বিষোদগার করে, স্বাধীনতাবিরোধীদের কৌশলে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করে এবং দেশকে উল্টো পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এদের চিহ্নিত করতে হবে। এরা প্রশাসনকে যাতে কোনো ক্রমেই ব্যবহার না করতে পারে, সে ব্যাপারেও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

আমরা মনে করি, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকতে পারে; কিন্তু স্বাধীনতা, শহীদ, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের দ্বিমত থাকতে পারে না। আমরা চাই, দলমত-নির্বিশেষে সবাই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসুক। পাশাপাশি, স্বাধীনতার লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হোক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা