kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

আবরার হত্যা মামলা

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করাই সংগত

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছে, ১১ জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ঘটনাস্থলে উপস্থিতি এবং অন্য কোনোভাবে সম্পৃক্ততার কারণে ১৪ জনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ২১টি আলামত ও আটটি জব্দ তালিকা যুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুয়েটের তড়িেকৗশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। পরদিন তাঁর বাবা চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারভুক্ত ১৯ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ২৫ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন এজাহারভুক্ত আসামি। হত্যাকাণ্ডে চতুর্থজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তদন্তে। অভিযোগপত্রে মোট ৩১ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বাদীপক্ষের, সাতজন বুয়েটের শিক্ষক, ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন কর্মচারী।

এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। আগামী সোমবার প্রসিকিউশন টিমকে মামলা গ্রহণ করতে বলা হবে। বিচারিক আদালতে মামলা স্থানান্তরের পরই যাতে দ্রুত বিচার শুরু করা যায়, সে জন্য প্রসিকিউশন টিম ঠিক করে রাখা হয়েছে। অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের পর কিছু আইনি প্রক্রিয়া থাকে। চেষ্টা করা হবে এসব প্রক্রিয়া যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়। আবরার হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হবে। কারণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ আবেদন আসতে হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য প্রথমে ৯০ দিন, পরে আরো ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে হবে। না পারলে আরো ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। মোট ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। নুসরাত হত্যা মামলার বিচারের মতো এ মামলার বিচারও দ্রুত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ দ্রুতই অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। বিচারপ্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। তাহলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরো বাড়বে। অপরাধীরা সতর্ক হবে, অপরাধ কমবে। ভিন্নমত প্রকাশের পরিসরও বাড়বে। ভিন্নমত সহ্য করার মানসিকতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অবশ্যই থাকতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা