kalerkantho

শনিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৭। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১ সফর ১৪৪২

আস্থা ও আস্থাহীনতার চিত্র

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আস্থা ও আস্থাহীনতার চিত্র

গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘বিপদ বেশি, সহায় কম’ শীর্ষক জরিপভিত্তিক অনুসন্ধানমূলক গুচ্ছ প্রতিবেদন আমাদের নতুন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করেছে। নানা বিষয়ে প্রশ্ন নিয়ে নানা শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষের কাছে হাজির হয়েছিল কালের কণ্ঠ। জানার বিষয় ছিল, আকস্মিক কোনো সমস্যা বা বিপদে পড়লে মানুষ প্রথম কার কাছে সাহায্য চায়। বিচারের জন্য কার কাছে যায়। স্বাভাবিকভাবে আমরা ধারণা করতে পারি বা এটাই তো স্বতঃসিদ্ধ যে দেশের কোনো নাগরিক বিপদে পড়লে সাহায্য চাইবে রাষ্ট্রের কাছে, আর রাষ্ট্রই ব্যবস্থা রাখবে উদ্ধারের। বাংলাদেশে সে ব্যবস্থাও আছে। কিন্তু ব্যবস্থাটি কতটুকু কার্যকর, দেশের মানুষ এ ব্যবস্থার ওপর কতটুকু আস্থা রাখতে পারছে, এসবই ছিল কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধান। কতটা কার্যকর? দেশের মানুষ কি বিপদে পড়লে রাষ্ট্রযন্ত্রের শরণাপন্ন হয়? সাহায্য পেলে কতটুকু পায়? জরিপ ও অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, বিপদে পড়ে এবং ন্যায়বিচার পেতে কেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুলিশ প্রশাসন কিংবা আইন-আদালতের আশ্রয় নেয় না মানুষ। তার কারণ অনুসন্ধানও ছিল জরিপের বিষয়। এ বিষয়ে জরিপের তথ্য কী বলছে? বিপদে পড়েও পুলিশের সহায়তা না চাওয়ার কারণ হিসেবে ২৬ শতাংশ বলেছে, আস্থা নেই। হয়রানির ভয়ের কথা বলেছে ২৫.২ শতাংশ। প্রয়োজন পড়েনি বলেছে ২৪.১ শতাংশ। ঘুষের ভয়ের কথা বলেছে ১৪.৬ শতাংশ। মাধ্যম বা দালাল না থাকার কথা বলেছে ১০ শতাংশ। মানুষের মধ্যে সমস্যা বা বিপদের শঙ্কা কাজ করে কি? কালের কণ্ঠ’র এমন জিজ্ঞাসায় হ্যাঁ বলেছে ৮০.২ শতাংশ, না বলেছে ১৯.৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে দেশের বেশির ভাগ মানুষ। এখনো বেশির ভাগ মানুষ সামাজিক বিচারেই বেশি আস্থাশীল।

দেশে আইন আছে, আছে আইনের শাসন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়। সেখানে এমন কেন হবে? সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার কারণেই পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সমাজে আইনের শাসনের অভাব থেকেই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জরিপে যে ধারণা উঠে এসেছে, তাতে প্রতীয়মান হচ্ছে, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক জননিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল, অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপরই মানুষ বেশি নির্ভর করছে। অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এখনকার পুলিশ জনবান্ধব পুলিশে পরিণত হচ্ছে। পুলিশ চেষ্টা করছে মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, পুলিশের প্রতি আস্থাহীনতার বিষয়টি কিছুটা হলেও সত্য।

কালের কণ্ঠ’র এই জরিপ ও অনুসন্ধানে যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপরই জোর দিয়েছেন। আস্থাহীনতা কাটিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা