kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বুলবুলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ত্রাণ ও পুনর্বাসনে জরুরি ব্যবস্থা নিন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুলবুলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল গত রবিবার ভোরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছার পর বৃষ্টি ঝরিয়ে শক্তি হারিয়ে পরিণত হয় গভীর স্থল নিম্নচাপে। তবে জেলায় জেলায় ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে বুলবুল। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে উপড়ে গেছে বহু গাছ, বিধ্বস্ত হয়েছে চার থেকে পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দমকা হাওয়ায় গাছ ও ঘর চাপা পড়ে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে ১০ জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হওয়ায় ‘বুলবুল’-এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু কৃষক, মৎস্য খামারিসহ গ্রামের দরিদ্র লোকজন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ১৬ জেলার দুই লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে রোপা আমন, খেসারি ও পানের বরজসহ রবিশস্য ও শীতকালীন সবজি রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে সারা দেশে এবার ৬৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঝড়ে আক্রান্ত ১৬ জেলায় চাষ হয়েছে ১৬ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে।

নিকট-অতীতে ২০০৯ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আইলা এবং ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরও স্থলভাগে উঠে এসেছিল সুন্দরবন উপকূল দিয়ে। আইলায় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার। আর সিডরের শক্তি ছিল তার দ্বিগুণেরও বেশি—ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। প্রলয়ংকরী সিডরে মৃত্যু হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের। তবে আরো অনেক মানুষ বেঁচে যায় সুন্দরবনের কারণে। এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই ঝড়ে, ভেঙে পড়ে হাজার হাজার গাছপালা। এবারও অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপকূল অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। যে রূপ ধারণ করে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ধেয়ে আসছিল, তাতে সুন্দরবন না থাকলে এই দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রীও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সুন্দরবন সবুজ বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। এর ওপর অনেক অত্যাচার হয়। এখানে আরো গাছ লাগিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আঘাত করার সংখ্যা ও তীব্রতা দুটিই বাড়তে থাকবে। সেই ক্ষেত্রে বিস্তীর্ণ নিচু উপকূলীয় এলাকা নিয়ে আমাদের শঙ্কা থাকবেই। তাই প্রবল ঝুঁকিতে থাকা দুই কোটিরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচাতে স্থায়ী উদ্যোগের প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে হবে। যেমনটি দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, উপকূলে সবুজ বেষ্টনী বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষ করে ফসল ও ঘরবাড়ি হারানো মানুষের পাশে এখনই পর্যাপ্ত ত্রাণ নিয়ে দাঁড়াতে হবে। তাদের পুনর্বাসনে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা