kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অযোধ্যা মামলার রায়

সাম্প্রদায়িক হানাহানি কাম্য নয়

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে কয়েক দশকের প্রতীক্ষার অবসান হলো। গতকাল শনিবার অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পাঁচ বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ে বলা হয়েছে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির হবে, মসজিদ বিকল্প জায়গায়। মসজিদ নির্মাণে সরকারকে অন্যত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। পৌনে তিন একরের ওই স্থানে যে মন্দির হবে, তা হবে একটি ট্রাস্টের অধীনে। তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে এ ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। বিরোধপূর্ণ জমি চলে যাবে ট্রাস্টের কাছে। আদালতের রায়ে বলা হয়, মসজিদের নিচে স্থাপনা থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তবে এটি মন্দির কি না, তা নিশ্চিত নয়। গতকাল দেওয়া এই রায়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ওয়াক্ফ বোর্ডের আরজি এবং নির্মোহী আখড়ার বিতর্কিত জমির ওপর দাবি দুটিই খারিজ করে দেন। এই রায়ে বিতর্কিত জমির ওপর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্তৃত্বও খর্ব হলো, যারা মন্দির নির্মাণের জন্য মসজিদ ভেঙেছিল। কারণ জমিটি এখন ট্রাস্টের অধীনে চলে যাবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড মন্দির নির্মাণসহ সেটির দেখভালের দায়িত্বে থাকবে। রায়ে বলা হয়, বাবরি মসজিদ ভাঙার মধ্য দিয়ে আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। গত ৬ আগস্ট থেকে টানা ৪০ দিন শুনানি হয়েছে অযোধ্যা মামলার।

ষোড়শ শতকে নির্মিত বাবরি মসজিদটি ১৯৯২ সালে গুঁড়িয়ে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। রামচন্দ্রের জন্মভূমিতে এই মসজিদ তৈরি করা হয়েছে বলেই তাদের বিশ্বাস। মসজিদটি ভাঙা নিয়ে ওই বছর হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় ভারতজুড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। অযোধ্যা মামলার রায় ঘিরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে গতকাল সকাল থেকেই উত্তর প্রদেশজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

এ ছাড়া আগামী সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অযোধ্যার রায়ের পর আবারও ১৯৯২ সালের দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া আটকাতে সব রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের নেতারা নিজ নিজ দলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৯২ সালে দাঙ্গা ছড়িয়েছিল বাংলাদেশেও। এবারও কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যেন কোনোভাবে এই মামলার রায় নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, কবি নজরুল ইসলামের কবিতার সেই অমর পঙক্তি, ‘ভিন্ ধর্মীর পূজা-মন্দির, ভাঙিতে আদেশ দাওনি, হে বীর’ কিংবা ‘তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,/তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা