kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

সবার আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া নিশ্চিত করুন

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। আবহাওয়া বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আজই এটি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪৫ কিলোমিটার। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, ক্রমেই শক্তিশালী হওয়া ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাই যাতে আশ্রয়কেন্দ্রে যায় তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির (ভেরি হেভি সাইক্লোনিক স্টর্ম) যে গতিপথ দেখা যাচ্ছে, সেটি যদি আর না বদলায়, তাহলে এটি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে ভোলা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল আঘাত হানতে পারে। এ সময় বিপজ্জনক জলোচ্ছ্বাসও হতে পারে। এর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে এই একই অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। তখন প্রায় ২০ লাখ লোককে আশ্রয়কেন্দ্র বা অন্যান্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রোয়ানুতে যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তারা প্রায় সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে না গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজের বাড়িঘরেই থেকে গিয়েছিল। এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তার পরও ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। রোয়ানুর সময় ১২টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করেছে। কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুত্হীন অবস্থায় ছিল বেশির ভাগ গ্রাম। ত্রাণসামগ্রী না পাওয়ার অভিযোগও ছিল প্রবল। বেড়িবাঁধ ভেঙে বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। পানীয়জলের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছিল। এবার যেন একই পরিস্থিতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আঘাত করার সংখ্যা ও তীব্রতা দুটিই ক্রমান্বয়ে বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বিস্তীর্ণ নিচু উপকূলীয় এলাকা নিয়ে আমাদের শঙ্কা থাকবেই। তাই প্রবল ঝুঁকিতে থাকা দুই কোটিরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচাতে স্থায়ী উদ্যোগের প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে হবে। ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি সুপারিশ করেছিল উপকূল রক্ষা বাঁধগুলোকে আরো উঁচু ও মজবুত করে গড়ে তোলার জন্য। দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই সেভাবে উপকূল রক্ষা বাঁধ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। উপরন্তু সংস্কার কাজটিও ঠিকমতো করা হয় না। তার ফলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র দূরে হলে মানুষ সেখানে যেতে আগ্রহী হয় না। আবার অনেকে চুরি হওয়ার ভয়ে গবাদি পশু ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চায় না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গবাদি পশু রাখার উঁচু ঢিবিসহ এক কিলোমিটার দূরত্বে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হলে সবাই স্বেচ্ছায় সেখানে যেতে চাইবে। কিন্তু তেমন ব্যবস্থা আমরা এখনো করতে পারিনি।

আমরা মনে করি, উপকূলবাসীর জীবনরক্ষায় তাৎক্ষণিক বিপদ মোকাবেলার পাশাপাশি স্থায়ী উদ্যোগগুলো দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সব মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে হবে এবং সেখানকার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা